জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’য় (Parineeta) ইউনিভার্সিটির পর্ব শেষ করে পারুল এবার কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে। কিন্তু সেখানে তাঁকে প্রতিনিয়ত নিজের সাজ পোশাক এবং ভাষার জন্য, কোম্পানির সিইও ম্যাডামের কাছে অপদস্ত হতে হচ্ছে। এবার প্রকাশ্যে এসেছে নতুন প্রোমো, আর সেটা যেন শুরু থেকেই এক তীব্র উত্তেজনায় ভরা। পারুলকে অনেকদিন ধরে অফিসে নিয়মিতই হেনস্তা হতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে সংযুক্তা ম্যাডামের কাছ থেকে। অথচ পারুলকে যারা চেনে, তারা জানে মেয়েটা দায়িত্ব পালনে যতটা মনোযোগী ততটাই দৃঢ় স্বভাবের।
তাই এই প্রোমোর শুরুতেই তার চোখে যে দৃঢ়তার ঝলক দেখা গেল, তা দর্শকদের বেশ চমকে দিয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত অংশটি আসে পারুলের প্রেজেন্টেশন জমা দেওয়ার দৃশ্যে। কাজ ঠিকমতো শেষ করেও এমনভাবে তাকে অপদস্ত করা হয়, যেন সে কোনও বড় ভুল করে ফেলেছে। সংযুক্তা ম্যাডামের মুখে অবজ্ঞার হাসি আর সেই কাগজ ছুঁড়ে দেওয়া, এই আচরণগুলো যেন ইচ্ছাকৃতই। তবুও পারুল প্রথমে নিজের ধৈর্য হারায় না। খুব শান্তভাবে জানিয়ে দেয় যে এই ব্যবহারের কোনও যুক্তি নেই বরং ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।

কিন্তু পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয় যখন ম্যাডাম ব্যঙ্গ করে ‘সরি’ চাওয়ার বদলে এক গ্লাস জল ছুঁড়ে দেয় পারুলের মুখে। অফিসের পরিবেশ যেন মুহূর্তে থমকে যায়। অপমানের এই রূঢ় মুহূর্তই পারুলকে বদলে দেয়। এতদিন যে মেয়েটিকে সবাই শান্ত স্বভাবের কর্মী হিসেবে দেখত, সেই পারুলের চোখে তখন জ্বলে ওঠে অন্য এক রূপ আর নিজের প্রতি অসম্মানের সরাসরি প্রতিবাদ করার রূপ। তারপর আসে প্রোমোর সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত দৃশ্য আর পারুলের সংলাপ।
কোনও চিৎকার নেই, কোনও নাটকীয়তা নেই, তবুও কথাগুলো তীক্ষ্ণ সেই কথাগুলি। গ্রামের একটি প্রবাদ দিয়ে সে বুঝিয়ে দেয় যে প্রতিটি অন্যায়েরই যোগ্য জবাব আছে। আর পর মুহূর্তেই ডেস্কের উপর রাখা চায়ের কাপটি তুলে সোজা ছুঁড়ে দেয় ম্যাডামের দিকে। এই কাজটি প্রতিশোধ নয়, বরং বহুদিনের দমিয়ে রাখা ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যাকে প্রোমোটি অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট যে পারুলের এই প্রতিবাদ তাদেরকেও নাড়া দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ছদ্মবেশে উজি! খেয়ার বদলে উজিকে ছুঁতে গিয়ে ধরা পড়লেন মেসো, অপরাধীকে হাতেনাতে ধরেও উল্টো চাপে পড়ল সে! ‘জোয়ার ভাঁটা’য় তুঙ্গে উত্তেজনা, উজি কি নিজের নিরাপত্তার জন্য মেসোকে ছেড়ে দেবে?
কর্পোরেট দুনিয়ায় বহু মানুষই অন্যায় সহ্য করেন ভয় বা চাকরি হারানোর আশঙ্কায়। কিন্তু পর্দার পারুল যেন হাজারো কর্মীর চাপা ক্ষোভের প্রতিনিধিত্ব করছে। অনেকেই বলছেন, তার সাহসী ভঙ্গি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে আর এই কারণেই সিরিয়ালটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বাস্তবে হয়তো সবাই এমন করে প্রতিবাদ করতে পারে না, কিন্তু পারুল দেখিয়ে দিচ্ছে অন্যায় সহ্য করা বাধ্যতামূলক নয় আর প্রয়োজন হলে নিজের সম্মানের পক্ষে দাঁড়ানোই আসল শক্তি।
