টেলিভিশনের পর্দায় যাঁদের প্রতিদিন দেখা যায়, তাঁদের ঝকঝকে উপস্থিতির আড়ালে যে কতটা কঠিন জীবন লুকিয়ে থাকে, তা আমরা খুব কমই জানি। আলো, ক্যামেরা আর জনপ্রিয়তার বাইরে তাঁদের অনেকের জীবনেই রয়েছে না বলা কষ্টের অধ্যায়।
এমনই একজন অভিনেত্রীর নাম অস্মিতা চক্রবর্তী। তাঁর জীবনের শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র এক মাস বয়সেই হঠাৎ দুর্ঘটনায় বাবাকে হারান তিনি। সেই সময় তাঁর মায়ের কোনও প্রস্তুতিই ছিল না এমন বড় ধাক্কা সামলানোর। স্বামীর মৃত্যুর পর বাবার বাড়িতে আশ্রয় পাওয়ার আশা থাকলেও বাস্তব ছিল নির্মম। সেখানে ঠাঁই তো মেলেইনি, উল্টে শুরু হয় অপমান। সদ্য বিধবা এক নারী আর কোলে শিশুকে নিয়ে সমাজের চোখে তারা হয়ে ওঠেন বোঝা।
এই পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে অস্মিতার মা মেয়েকে নিয়ে যান মামার বাড়িতে। কিন্তু সেখানেও খুব একটা স্বস্তি মেলেনি। সীমিত আয়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর চারপাশের অবহেলা—সব মিলিয়ে জীবন চলত চরম সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন তাঁর মা। সামান্য আয়ের মধ্যেই দু’জনের সংসার টানতে হতো। তবুও মেয়ের স্বপ্নকে কোনও দিন দমিয়ে রাখেননি তিনি। প্রতিটি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল অস্মিতার মানসিক জোর।
সময় গড়ায়, পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতি টান তৈরি হয় অস্মিতার। ২০২০ সালে তিনি প্রথম টেলিভিশনের জগতে পা রাখেন ‘ভাগ্যগুলো কি’ ধারাবাহিকে রিয়া চরিত্রের মাধ্যমে। এরপর একে একে অভিনয় করেন ‘ফেলনা’, ‘সাজের বাতি’, ‘খেলা বাড়ি’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে। প্রতিটি সিরিয়ালেই তাঁর চরিত্র ছিল পার্শ্ববর্তী হলেও অভিনয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন তিনি। বিশেষ করে ‘খেলা বাড়ি’ ধারাবাহিকে কলি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন অস্মিতা।
আরও পড়ুনঃ পর্দার মতো বাস্তবেও কি জমাট বাঁধছে দীপ-ঝাঁপির রসায়ন? দর্শকের কৌতূহলে মুখ খুললেন সৌরভ চক্রবর্তী! কী বললেন অভিনেতা?
তবে এত কাজ আর জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও আজও তাঁকে নায়িকার চরিত্রে দেখা যায়নি। তবুও আক্ষেপ নয়, বরং নিজের জায়গা তৈরি করে নেওয়াই তাঁর কাছে বড় সাফল্য। বর্তমানে তিনি অভিনয় করছেন ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকে। অপমান, দারিদ্র্য আর অবহেলার ভিতর থেকে উঠে এসে আজ টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হওয়া—অস্মিতা চক্রবর্তীর জীবন সেই সমস্ত মানুষদের জন্য অনুপ্রেরণা, যাঁরা প্রতিদিন লড়াই করেও হাল ছাড়তে চান না।
