বাংলা ছবির জগতে সাফল্য আর ব্যর্থতার মাঝখানের ফাঁকটা অনেক সময় চোখে পড়ে না। আলোয় থাকা মুখগুলো যেমন দ্রুত পরিচিত হয়, তেমনই অন্ধকারে সরে যাওয়া নামগুলো প্রায় নিঃশব্দে হারিয়ে যায়। তবু কিছু অভিনেতা থাকেন, যাঁরা হার মানতে জানেন না। সময়ের সঙ্গে লড়াই করে, নিজের জায়গাটা ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান। সেই লড়াইয়ের গল্পই যেন আজ আবার নতুন করে সামনে আনছেন বনি সেনগুপ্ত।
২০১৪ সালে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘বরবাদ’ ছবির মাধ্যমে টলিউডে পা রেখেছিলেন বনি। প্রথম ছবিতেই নজর কাড়া পারফরম্যান্স, তার পরের বছর ‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে’-তে রোমান্টিক নায়কের ইমেজ—সব মিলিয়ে তখন তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বড় প্রত্যাশা। অনেকেরই মনে হয়েছিল, নতুন প্রেমের নায়ক বনি। কিন্তু সেই ছন্দ বেশিদিন টিকল না। একের পর এক ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়তেই ধীরে ধীরে মূলধারার আলো থেকে সরে যেতে শুরু করেন তিনি।
এই সময়েই শুরু হয় বনির প্রকৃত লড়াই। বড় ব্যানারের কাজ কমতে থাকে, বদলে আসে ছোট বাজেটের ছবি। তবু কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বনি নিজেই স্বীকার করেছেন, পরিচিতি ধরে রাখার জন্য তাঁকে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নিতে হয়েছে। চারটে মানুষও যদি তাঁকে মনে রাখেন, সেটাই তখন ছিল তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি। প্রখ্যাত অভিনেতা সুখেন দাসের নাতি এবং পরিচালক অনুপ সেনগুপ্ত ও অভিনেত্রী পিয়া সেনগুপ্তের পুত্র হয়েও যে পথটা এতটা কঠিন হবে, তা হয়তো তখন কল্পনাও করেননি তিনি।
সম্প্রতি নিজের কেরিয়ারের সেই কঠিন অধ্যায় নিয়ে আরও খোলামেলা কথা বলেছেন বনি। তাঁর অভিযোগ, খারাপ সময়ে ইন্ডাস্ট্রির বহু নামী পরিচালক ও নাট্যকার তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করলেও কাজের প্রস্তাব দেননি। দেখা হলে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন তিনি ভিন্নধারার বা বড় বাজেটের কাজ করছেন না। এখানেই বনির পাল্টা প্রশ্ন—যদি তাঁর কাজ ভালোই লাগে, তা হলে সেই সুযোগগুলো দেওয়া হয়নি কেন? এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই টলিউডের এক ধরনের দ্বিচারিতা বা হিপোক্রেসির দিকটি তিনি তুলে ধরেছেন।
তবে অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চান না বনি। বরং নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন কাজের সংখ্যার থেকে মানই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে তাঁকে। সেই বাস্তবতা মেনেই ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন তিনি। এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই পুঁজি করে বেছে নিতে চান ভালো চরিত্র।
আরও পড়ুনঃ ‘বিয়ে করেছিলাম মানেই, আজীবন আধিপত্য থাকবে এমনটা নয়’ বিচ্ছেদের পর বন্ধু হওয়ার বার্তা জিতুর! “প্রাক্তনের সঙ্গে কি সুসম্পর্ক রাখা যায়?” প্রশ্ন উঠতেই কি জানালেন অভিনেতা? নবনীতাকে কেন ধন্যবাদ জানালেন তিনি?
এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে উইন্ডোজ প্রোডাকশন্স-এর ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর মাধ্যমে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অরিত্র মুখোপাধ্যায়। ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেতে চলা এই ছবিতে বনির সঙ্গে রয়েছেন মিমি চক্রবর্তী, সোহম মজুমদার ও স্বস্তিকা দত্ত। বড় প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন না দেখালেও, নিজের জায়গাটা আবার ফিরে পাওয়ার আশাতেই এখন বুক বাঁধছেন বনি।
