বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল সর্বদা তুঙ্গে থাকে। বিশেষত সম্পর্ক, বিবাহ ও বিচ্ছেদের ঘটনাগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সম্প্রতি অভিনেতা জিতু কমল-এর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দর্শকরা নতুন কৌতূহল পেয়েছেন। তার প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতার সঙ্গে সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং বর্তমান সম্পর্কের দিক নিয়ে অভিনেতা নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন।
বর্তমানে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ আর্য রূপে জিতু কমল নতুনভাবে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বড় পর্দা হোক বা ছোট পর্দা, তার অভিনয়শৈলী ও চরিত্রের গভীরতা দর্শকদের মনে আলাদা ছাপ ফেলেছে। টলিউডের এই সমৃদ্ধ পরিবেশে জিতু শুধু একজন অভিনেতা নয়, বরং দর্শকদের জন্য একটি চিন্তাশীল ও মানবিক চরিত্রের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত।
সম্প্রতি ইন্টারভিউতে অভিনেতাকে প্রশ্ন করা হয়, প্রাক্তনের সঙ্গে কে সুসম্পর্ক বজায় রাখা যায়? উত্তরে জিতু কমল জানিয়েছেন “বিয়ে করে সংসার করলেও যদি সেটা কাজ না করে, তার মানে সম্পর্ক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় না। অনেক সময় আমরা ভাবি, অন্য কোনো কিছু আমাদের জন্য ভালো হতে পারত, কিন্তু নতুন পথে এগিয়ে গেলেও পুরনো সম্পর্কের বন্ধুত্ব বজায় রাখা সম্ভব।” তিনি তুলনা করেছেন কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে, যেখানে আমরা নতুন কাজ করি, কিন্তু পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয় না। ঠিক সেই উদাহরণ দিয়েই অভিনেতা জানিয়েছেন প্রাক্তনের সঙ্গে অবশ্যই ভালোভাবে সম্পর্ক রাখা যায়।
অভিনেতা আরও জানিয়েছেন, “বিচ্ছেদের সময় আমরা দুজনেই একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপরও নবনীতা আমার খারাপ সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা আমি কখনও ভুলব না।” জিতু স্পষ্ট করেছেন, বিয়ে মানেই কারোর ওপর আধিপত্য করা নয়, কিংবা শুধুমাত্র অন্যের কথা মেনে চলার নাম নয়। এই দর্শন অনুযায়ী, তিনি এবং নবনীতা বিচ্ছেদের পরও একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রেখেছেন।
আরও পড়ুনঃ “ট্রোলিং-এর ভয়ে কাজ থামাব এমন মানুষ আমি নই” অভিনয়কে জীবনের অক্সিজেন বলে মানা রুবেল, কেন হঠাৎ ট্রোলারদের বিরুদ্ধে সরব? কী এমন ঘটেছে?
জিতু কমল মনে করেন, জীবনকে খুব সহজভাবে দেখা উচিত। তিনি বিশ্বাস করেন, সম্পর্কের জটিলতাকে সহজভাবে গ্রহণ করলে মানসিক শান্তি আসে। এই বক্তব্য দর্শকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি, বিচ্ছেদ এবং বন্ধুত্ব সবই সম্মিলিতভাবে বিবেচনা করা যায়।
