জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“কাজ করতে দিন ছেলেটাকে, শান্তিতে বাঁচতে দিন এবার!” অনির্বাণ ভট্টাচার্যের হয়ে প্রকাশ্যে আবেদন দেবের, ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং ফেডারেশনের কাছে! এবার কি নড়েচড়ে বসেছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি?

টলিউডে (Tollywood) অনির্বাণ ভট্টাচার্যের (Anirban Bhattacharya) কাজ করা নিয়ে গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই একটা পরোক্ষ বিরোধিতা চলছে। নতুন বছরের শুরুতেই একাধিক ছবির ঘোষণা করে ঝড় তোলার পর, অনির্বাণের সমস্যা মেটাতে মাঠে নামলেন দেব (Dev)। গতকাল অনির্বাণ উপস্থিত না থাকলেও, সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর হয়ে প্রকাশ্যে আবেদন জানিয়েছিলেন অভিনেতা-সাংসদ। দেবের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, এই বিষয়টি তিনি আর চুপ করে দেখতে পারছেন না। কাজ করার সুযোগ পাওয়া যে একজন শিল্পীর জীবনে কতটা জরুরি, সেই কথাই তিনি তুলে ধরেন নিজের অবস্থান থেকে।

প্রসঙ্গত, দেবের আগামী ছবি ‘দেশু৭’-এ অনির্বাণ থাকবেন কি না, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা না করলেও দেবের কথায় ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। তিনি জানান, এই ছবি নিয়ে এখনও অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি আছে। এমনকি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা হলেও, তাঁর দিক থেকেও কোনও সবুজ সংকেত মেলেনি। দেবের মতে, অনির্বাণের মতো অভিনেতাকে নিতে হলে চরিত্রের গুরুত্ব ও গভীরতা থাকা দরকার। শুধুমাত্র নামের জন্য নয়, গল্পের প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, এর আগেও দেব ও অনির্বাণ একসঙ্গে কাজ করেছেন ‘রঘু ডাকাত’ ছবিতে। সেই সময়ে দুজনের কাজের অভিজ্ঞতা ভালোই ছিল। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেডারেশনের সঙ্গে অনির্বাণের সম্পর্ক যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, সেখানে কোনও কিছু তড়িঘড়ি করা সম্ভব নয়। এদিন ইম্পার মিটিংয়ের পর দেব জানান, ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে অনির্বাণকে নিয়ে আলাদা করে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে বিষয়টি যে তাঁর মাথায় রয়েছে, সেটাও তিনি লুকোননি।

উল্লেখ্য, এদিন ইম্পা অফিসে হওয়া স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে দেব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির বহু পরিচিত মুখ। এতজনের উপস্থিতিতেই দেব, অনির্বাণ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, অভিনেতা, সাংসদ বা ইন্ডাস্ট্রির কর্মী যে পরিচয়েই তাঁকে দেখা হোক না কেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ফেডারেশনের সভাপতির কাছে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইছেন। দেবের বক্তব্যের শেষ অংশে ছিল একটি আবেদন।

তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলা বিনোদন জগতের বেশির ভাগ মানুষই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। কাজ বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব শুধু একজনের ওপর নয়, গোটা পরিবার ও ভবিষ্যতের ওপর পড়ে। তাই অনির্বাণ একা নন, প্রত্যেক শিল্পী ও কলাকুশলীর কাজ করার অধিকার থাকা উচিত। তিনি তাই বলেছেন, “অনির্বাণকে কাজ করতে দেওয়া হোক, এবার শান্তিতে বাঁচতে দেওয়া হোক ওকে।” এই কথাই সংযত ভাষায় তুলে ধরেন দেব। তাঁর আবেদন, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে যেন সবাই কাজ করতে পারেন, স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page