নিজেরই একটি মন্তব্য ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন জনপ্রিয় সুরকার এ আর রহমান। কয়েক দিন আগে তিনি জানিয়েছিলেন, গত আট বছরে একাধিক কাজ হারিয়েছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি ছিল, মুখের উপর কেউ কিছু না বললেও, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই হয়তো কাজের সুযোগ কমেছে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয় এবং বিভিন্ন শিল্পীও তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন। বিতর্ক ক্রমশ বাড়তে থাকায় অবশেষে নিজেই মুখ খুললেন রহমান।
একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। রহমান বলেন, সঙ্গীতের মাধ্যমেই তিনি সব সময় ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে এসেছেন। তাঁর কাছে ভারত শুধুই একটি দেশ নয়, বরং অনুপ্রেরণা, শিক্ষক এবং নিজের ঘর। তিনি জানান, অনেক সময় মানুষের উদ্দেশ্য ভুলভাবে বোঝা হয়, কিন্তু তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল সঙ্গীতের মাধ্যমে সম্মান ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া। তিনি কখনওই কাউকে যন্ত্রণা দিতে চাননি বলেও স্পষ্ট করেন।
ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে মন্তব্য করার পর যে কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, সেটিরও জবাব দেন রহমান। তিনি বলেন, ভারতীয় হয়ে নিজেকে তিনি অত্যন্ত গর্বিত মনে করেন। ভারতীয় বলেই আজ তিনি নানা সংস্কৃতিকে স্বাধীনভাবে উদযাপন করার সুযোগ পেয়েছেন। এই স্বাধীনতাই তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, দেশের বৈচিত্র্যই শিল্পকে সমৃদ্ধ করে এবং সেই পথেই তিনি এগিয়ে যেতে চান।
এছাড়াও নিজের আসন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কাজের কথাও জানান রহমান। নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় নির্মিতব্য রামায়ণ ছবিতেও তিনিই সুরকার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, এমন সঙ্গীত তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য, যা অতীতকে সম্মান জানায়, বর্তমানকে উদযাপন করে এবং ভবিষ্যৎকে অনুপ্রাণিত করে। দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, এই মাটির কাছ থেকেই তিনি শক্তি ও সাহস পান।
আরও পড়ুনঃ ‘বিশ্বজিতের ছেলে, কিন্তু একজন অভিনেতাও আমি!’ ‘বাবার ছায়া থেকে বের হতে পাঁচ বছর লেগেছে!’ কেরিয়ারের শুরু থেকে আজও নিজের ‘ব্র্যান্ড’-এর সঙ্গে লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়!
ভিডিও বার্তার শেষে রহমান আবেগঘনভাবে দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জয় হিন্দ এবং জয় হো। এরপর নিজের জনপ্রিয় গান মা তুঝে সালাম বন্দে মাতরমের অংশ জুড়ে দেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে যায়। তাঁর এই বার্তা আবারও প্রমাণ করল, সঙ্গীতের মাধ্যমেই তিনি ঐক্য, ভালোবাসা এবং মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দিতে চান।
