মঙ্গলবার বিকেলে বেনারসের ঘাটে গঙ্গাকে সাক্ষী রেখে দ্বিতীয় বিয়ে সারলেন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ। লাল বেনারসিতে ঋতিকা গিরির সঙ্গে সিঁদুর দান ও মঙ্গলসূত্র পরানোর ছবি ছড়িয়ে পড়তেই নেটপাড়ায় শোরগোল। আনন্দের মুহূর্তের মাঝেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে হিরণের আগের দাম্পত্য জীবন ও ডিভোর্সের সত্যতা নিয়ে।
এই আবহেই বিস্ফোরক দাবি করেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়েছিল ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর এবং এখনও পর্যন্ত ডিভোর্স হয়নি, এমনকি আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি। অনিন্দিতার দাবি এই বিয়ে আইনগত জটিলতায় পড়তে পারে। মেয়ের কথা ভেবে এতদিন চুপ থাকলেও এখন আর নীরব থাকতে পারছেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় বয়সের হিসাব সামনে আসতেই। অনিন্দিতার দাবি ঋতিকার বয়স তাঁদের মেয়ে নিয়াসার থেকে মাত্র দু বছর বেশি। নিয়াসার বয়স এখন উনিশ, ফলে ঋতিকার বয়স একুশের কাছাকাছি। অন্যদিকে হিরণের বয়স নির্বাচন সংক্রান্ত হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে ঊনপঞ্চাশের আশেপাশে। অর্থাৎ দুজনের বয়সের ব্যবধান প্রায় আটাশ বছর।
এই অসম বয়সের সম্পর্ক এবং আইনি বিচ্ছেদের প্রশ্নে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তুলছেন একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন। বিয়ের ছবি নিজে ভাগ করলেও এই বিতর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি হিরণ। ফোনেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা যায় না”—‘তুই আমার হিরো’ধারাবাহিকের অভিনেত্রী মোহনা মাইতির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি! কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এমন উপলব্ধি অভিনেত্রীর?
একদিকে অনিন্দিতার অভিযোগ, অন্যদিকে নতুন সম্পর্কের উষ্ণতা সব মিলিয়ে হিরণের ব্যক্তিগত জীবন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। খড়গপুরের বিধায়ক হিসেবে যিনি সবসময় লাইমলাইটে থাকেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামাজিক ও আইনি দিক থেকে কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে। আপাতত টলিপাড়ায় এটাই সবচেয়ে চর্চিত বিষয়।
