জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমরা সবাই অর্ধনারীশ্বর…একটু ঘৃ’ণা ও তাচ্ছিল্য জীবন রঙিন করে!” সমাজ মাধ্যমে ভরে উঠেছে ‘হেটার্স গ্রুপ’! সমালোচকদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ-ইতিবাচক বার্তায় পাল্টা জবাব জীতু কমলের!

আজকাল সমাজ মাধ্যমের আলোচনায় যাঁদের নাম প্রায়ই উঠে আসে, জীতু কমল (Jeetu Kamal) তাঁদের অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় আবারও তাঁকে ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (Chirodini Tumi Je Amar) ধারাবাহিকের পর্দার বাইরের ঘটনাগুলো এবার দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সহঅভিনেতাদের সঙ্গে মতের অমিল, পুরনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি মিলিয়ে অনেকেই বলছেন, বিতর্ক যেন জীতুর পিছু ছাড়ছে না!

কয়েক দিন আগেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সহঅভিনেতা অভ্রজিত চক্রবর্তীর একটি পোস্ট ঘিরে। অভ্রজিত প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার করা নিয়ে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। বিশেষ করে সহশিল্পী একজন মহিলা হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথাও বলেন তিনি। এই বক্তব্যই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় নানান ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। এরপরই আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন জীতু কমল।

তিনি মন্তব্যে জানান, অনুমতি ছাড়া ছবি পোস্ট করা ঠিক নয় এই বিষয়ে তাঁরও আপত্তি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সমাজ মাধ্যমে বাস্তবতায় এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। কথার শেষে করা একটি হালকা রসিকতা অনেকের কাছে খোঁচা হিসেবেই ধরা পড়ে। যদিও অভ্রজিত দ্রুতই বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পুরো বিষয়টাই মজার ছলে বলা, ব্যক্তিগত কোনও আঘাতের প্রশ্ন নেই।

জীতুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আগের মতোই রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবু নেটিজেনরা দিতিপ্রিয়া প্রসঙ্গ টেনে অনেকেই দাবি করেন, একই ধরনের ঘটনা বারবার সামনে আসা মোটেই কাকতালীয় নয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে এদিন জীতুর নিজের একটি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট। সেখানে তিনি জানান, তাঁকে ঘিরে আলাদা করে একটি ‘হেটার্স গ্রুপ’ তৈরি হয়েছে, যেখানে নতুন সহঅভিনেত্রী শিরিন পালের সঙ্গে কাজ করাকেও কটাক্ষের বিষয় করা হচ্ছে।

কিন্তু সেই সমালোচনাকেও তিনি ইতিবাচকভাবেই নেন। নারী-পুরুষের ভেদাভেদ নিয়ে কটাক্ষের ভাষায় কোনও অপমান দেখেন না বলেই জানান অভিনেতা। নিজের পোস্টে জীতু ‘হেটার্স গ্রুপ’ তৈরি হওয়ার ক্ষোভ বা রাগের চোখে দেখেননি, বরং সেটাকে ব্যঙ্গ করেছেন। নতুন সহঅভিনেত্রী শিরিন পালের সঙ্গে কাজ করার কারণেই এমন গ্রুপ খোলা হয়েছে, এই তথ্যকে তিনি নিজের ‘সৌভাগ্য’ বলেই উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, জীবনে একটু ঘৃণা বা তাচ্ছিল্য থাকাও দরকার, কারণ তাতেই নাকি জীবন রঙিন হয়!

পোস্টে লিঙ্গ নিয়ে কটাক্ষের বিষয়টিও তিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন যে একজন পুরুষকে নারী বা একজন নারীকে পুরুষ বলা অপমান নয়, কারণ সকলেই সমান এবং প্রত্যেক মানুষই অর্ধনারীশ্বরের অংশ! সব মিলিয়ে, সমালোচনাকেও হালকা রসিকতা, দর্শন আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামলে নেওয়ার মনোভাবই ধরা পড়েছে জীতুর এই পোস্টে। বিতর্কের মাঝেও এমন অবস্থানই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জীতু কমল অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি, মানুষ হিসেবেও কতটা পরিণত!

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page