‘এই বয়সের ফারাকই আমাদের আরও পরিণত করেছে!’ রণজয়ের সঙ্গে ১৩ বছরের ব্যবধান বিতর্কে, স্পষ্ট বার্তা শ্যামৌপ্তির! আড়ম্বর নয়, ভালবাসাই অগ্রাধিকার, বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কী জানালেন তিনি?

ভ্যালেন্টাইন্স ডে অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি চারহাত এক করতে চলেছেন অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলি। এই সুখবর সামনে আসার পর থেকেই অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। যদিও প্রথমদিকে দু’জনেই বিয়ে নিয়ে খুব বেশি কিছু প্রকাশ করতে চাননি। তবে এবার আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিয়ের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে নিজের ভাবনাচিন্তা সবটাই খোলাখুলি জানালেন শ্যামৌপ্তি। তিনি জানান, খবর প্রকাশের সময় তিনি শহরে ছিলেন না, শুটিংয়ের কাজে হলদিয়ায় ছিলেন। ফোনের পর ফোন এলেও ঠিকমতো কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কেনাকাটা এখনও শুরু না হলেও, নিজের সাজ নিয়ে অনেক দিন ধরেই স্বপ্ন বুনছেন অভিনেত্রী। বিয়েতে তিনি বেনারসি নয়, লাল রঙের শাড়িতেই নিজেকে দেখতে চান।

শ্যামৌপ্তির কথায়, তিনি এবং রণজয় দু’জনেই আড়ম্বর একেবারেই পছন্দ করেন না। তাই বিয়ের আয়োজন হবে একদম ছিমছাম। আলাদা করে এক সপ্তাহ ধরে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেই। বন্ধুদের মধ্যেই ঘনিষ্ঠভাবে সবটা সেরে ফেলার ইচ্ছা তাঁদের। দুই পরিবারও এই সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সহমত। এখনও নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো বা কেনাকাটা শুরু না হলেও খুব শিগগিরই সব প্রস্তুতি শুরু হবে। শুটিংয়ে বহুবার কনের সাজে ধরা দিলেও নিজের বিয়েতে তিনি নিজেকেই দেখতে চান, কোনও চরিত্রের ছায়া নয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিয়ের লগ্ন স্থির হয়েছে।

বিয়ের তারিখ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বয়সের পার্থক্য নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রণজয়ের থেকে শ্যামৌপ্তি বয়সে ১৩ বছরের ছোট। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, বয়সের ফারাক বা কম বয়সে বিয়ে করা কখনও তাঁর কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি। তিনি মনে করেন, জীবনের এই সিদ্ধান্ত তাঁর কেরিয়ারে কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং তিনি এমন জীবনই চেয়েছিলেন যেখানে ভালবাসা, বোঝাপড়া এবং মানসিক স্বস্তি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

দু’জনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল গুড্ডি ধারাবাহিকের শুটিংয়ে। কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। বয়সের ব্যবধান থাকলেও তাঁদের ভাবনা, পছন্দ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নে রয়েছে দারুণ মিল। একসঙ্গে পৃথিবী ঘোরা, পরস্পরের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এবং জীবনের প্রতিটি ধাপ ভাগ করে নেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। শ্যামৌপ্তির মতে, এই বয়সের ফারাকই হয়তো তাঁদের সম্পর্ককে আরও পরিণত করেছে এবং বিয়ের সিদ্ধান্তকে সহজ করেছে।

বিয়েতে আলাদা করে সঙ্গীত বা মেহন্দির আয়োজন থাকছে না। পুরোপুরি বাঙালি রীতিনীতি মেনেই হবে চারহাত এক। ভোজের তালিকাতেও থাকবে আদ্যোপান্ত বাঙালি স্বাদ, মাছ থেকে মাংসের নানা পদ। অনুরাগীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁদের প্রিয় তারকাযুগলের বিয়ের সাজ দেখার জন্য। ভালোবাসা, সরলতা আর পারিবারিক উষ্ণতায় মোড়া এই বিয়ে যে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে, তা বলাই যায়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page