বাংলা বিনোদন জগতের কথা উঠলেই যে নামটি সবার আগে চলে আসে, তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কয়েক দশক ধরে রুপোলি পর্দা থেকে ছোটপর্দা—সব জায়গাতেই নিজের দাপট বজায় রেখে চলেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভেঙে গড়ে নেওয়ার অসামান্য ক্ষমতা, চরিত্র নির্বাচনের সাহস এবং অভিনয়ের প্রতি চরম দায়বদ্ধতাই তাঁকে আজ বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যাঁকে দর্শক ভালোবেসে ‘বুম্বাদা’ বলে ডাকেন, বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুমুখী অভিনেতা। ‘মিস্টার ইন্ডাস্ট্রি’ নামে পরিচিত এই অভিনেতার ঝুলিতে রয়েছে একের পর এক স্মরণীয় ছবি। ‘মনের মানুষ’, ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘চোখের বালি’, ‘জাতিস্মর’, ‘প্রাক্তন’, ‘অমর সঙ্গী’, জনপ্রিয় ‘কাকাবাবু’ সিরিজ এবং সাম্প্রতিক ‘দশম অবতার’—সব ক্ষেত্রেই নিজেকে ভিন্নভাবে মেলে ধরেছেন তিনি। ১৯৬৮ সালে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর আজও তিনি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তবে এত দীর্ঘ কেরিয়ার, অজস্র সাফল্যের পরেও অভিনেতা হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে দ্বিধা করেন না প্রসেনজিৎ। সম্প্রতি এক কথোপকথনে তিনি স্বীকার করেছেন, কিছু কিছু অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে তাঁর “ভয়” লাগে। কারণ সেই অভিনয়শিল্পীরা এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছেন, যেখানে তাঁদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করাটা সহজ নয়।
প্রথমেই প্রসেনজিৎ উল্লেখ করেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চ্যাটার্জীর নাম। তাঁর কথায়, সুদীপ্তা একজন অন্য মাপের অভিনেত্রী। চরিত্রে কখন কীভাবে তিনি ডেলিভারি দেবেন, সেটা আগে থেকে বোঝা যায় না। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করতে গেলে নিজেকে ভীষণভাবে প্রস্তুত করতে হয়, রীতিমতো খাটতে হয়। এই অনিশ্চয়তা আর অভিনয়ের গভীরতাই নাকি তাঁকে ভয় পাইয়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ শুরু হলো বইমেলা! বইয়ের গন্ধে মোড়া শহর আর ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজার বইয়ের সংসার!
এরপর প্রসেনজিতের তালিকায় উঠে আসে ঋত্বিক চক্রবর্তীর নাম। ঋত্বিক যে কতটা শক্তিশালী অভিনেতা, তা বাংলা দর্শকের অজানা নয়। বিশেষ করে ‘জ্যেষ্ঠ পুত্র’ ছবিতে বাবার মৃত্যুর পর কান্নার সেই দৃশ্য—যেখানে তাঁর অভিনয়ে গোটা সেট স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। সেই অভিনয়ের তীব্রতা ও সততাই প্রসেনজিতের কাছে ভয়ের কারণ বলে নিজেই জানিয়েছেন তিনি।
