বেশ কিছু দিন ধরেই টলিপাড়ার পরিচিত মুখ অঙ্কিতা চক্রবর্তীর খোঁজ মিলছিল না বাংলা ছবি বা ধারাবাহিকে। শেষবার তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ঝনক এ। তারপর থেকেই একটানা মুম্বইতেই রয়েছেন অভিনেত্রী। আচমকাই কলকাতায় ফিরে আসায় শুরু হয়েছিল জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন ছিল, তা হলে কি নতুন কোনও বাংলা কাজ শুরু করতে চলেছেন তিনি। তবে সেই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়েছেন অঙ্কিতা নিজেই। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কলকাতায় তাঁর আসা শুধুই ব্যক্তিগত কারণে, কাজের জন্য নয়।
অঙ্কিতা জানিয়েছেন, তিনি কলকাতায় এসেছেন এক বন্ধুর বিয়ের উপলক্ষে। শান্তিনিকেতনে বিয়ের অনুষ্ঠান এবং পরে কলকাতায় বৌভাতের নিমন্ত্রণ সেরে আবার মুম্বই ফিরে যাবেন তিনি। এই মুহূর্তে কলকাতায় নতুন কোনও কাজের পরিকল্পনা নেই তাঁর। বরং তিনি নিজের জীবন এবং কেরিয়ারকে নতুন ভাবে সাজাতে চাইছেন। তাই সাময়িক ভাবে হলেও বাংলা ছোটপর্দা থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেত্রী।
এই প্রসঙ্গে অঙ্কিতার বক্তব্য যথেষ্ট বাস্তবধর্মী। তিনি বলেন, আপাতত ছোটপর্দায় কাজ করতে ইচ্ছুক নন। নিজের কাজের পরিধি আরও একটু বড় করতে চান। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকে নিয়মিত কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও, এখন তিনি নতুন ধরনের কাজের সুযোগ খুঁজছেন। অভিনেত্রীর কথায়, কলকাতায় তিন চার মাস অন্তর একটি কাজ করলে খরচ চালানো কঠিন হয়ে যায়। সেই তুলনায় মুম্বইয়ে বিভিন্ন মাধ্যম ও ধরনের কাজের সুযোগ অনেক বেশি।
অঙ্কিতা আরও বলেন, কলকাতার ইন্ডাস্ট্রি তুলনামূলক ভাবে ছোট। হাতে গোনা কয়েক জনই নিয়মিত কাজ করেন। তাঁর দাবি, যদি অডিশনের মাধ্যমে অভিনয়গুণ বিচার করে কাজ দেওয়া হত, তা হলে হয়তো তাঁর হাতে কাজের পরিমাণ আরও বেশি থাকত। মুম্বইয়ে সেই সুযোগ রয়েছে বলেই সেখানে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্টে নিজেকে মেলে ধরতে চান অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ “এখনও স্বপ্ন মনে হয় যেভাবে ক্ষত সারিয়েছে, সাত বছর ধরে আমি তোমার…” কোন পুরুষের প্রেমে বিভোর ‘ফুলকি’, দিব্যাণী? তবে কি মনের মানুষ খুঁজে পেলেন অভিনেত্রী?
শুধু অঙ্কিতাই নন, সাম্প্রতিক সময়ে টলিপাড়ার অনেক পরিচিত মুখই মুম্বইকে নিজেদের পাকাপাকি ঠিকানা করে নিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে অঙ্কিতার মত, অন্য শহরে গেলে লড়াই বেশি হলেও সম্ভাবনাও অনেক বেশি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আপাতত ছোটপর্দায় ফিরতে চান না। স্বাধীন ভাবে কাজ করতে চান এবং অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুন ভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
