নাটক, সিনেমা আর সিরিয়ালের দুনিয়ায় তারকাদের জীবন মানেই যে শুধু আলো-ঝলমল আর সাফল্যের গল্প, তা নয়। ক্যামেরার ঝলকানির আড়ালেও থাকে সম্পর্ক, ত্যাগ, বোঝাপড়া আর দীর্ঘদিনের ভালোবাসার নীরব অধ্যায়। অনেক সময় সেই ব্যক্তিগত গল্পগুলোই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আরও মানবিক করে তোলে দর্শকের চোখে। ঠিক তেমনই এক গল্প লুকিয়ে রয়েছে বাংলা বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ স্বাগতা বসুর জীবনে।
বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনের পরিচিত নাম স্বাগতা বসু। সুপারস্টার জিৎ-এর সঙ্গে বড় পর্দায় কাজ হোক বা যীশু সেনগুপ্ত ও কোয়েল মল্লিকের সঙ্গে ‘ঘরে ও বাইরে’ ছবিতে স্ক্রিন শেয়ার—সব ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় দক্ষতায় আলাদা করে নজর কেড়েছেন তিনি। শুধু সিনেমা নয়, ‘মিঠাই’-এর মতো জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিয়ালেও তাঁর উপস্থিতি দর্শকের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নানা চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন স্বাগতা। পর্দার বাইরে তিনি যে কতটা পারফেকশনিস্ট, তা কাছের মানুষজন ভালোই জানেন। কাজের ক্ষেত্র হোক বা বাড়ির সাজসজ্জা—সবকিছুতেই তাঁর নিখুঁত মনোযোগ। আর এই স্বভাবই কখনও কখনও তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরেছে সহকর্মী ও পরিবারের কাছে।
এর মাঝেই উঠে আসে তার ব্যক্তিগত জীবনের কথা, ১৯৯৪ সালে কলেজ জীবনের প্রেমকে বিয়েতে রূপ দেন স্বাগতা বসু। তাঁর স্বামী জয় পেশায় মার্কেটিং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, যার কারণে প্রায়ই কাজের সূত্রে বাইরে থাকতে হয়। দীর্ঘ ৩১ বছরের দাম্পত্য জীবনে সংসারের বড় দায়িত্ব সামলেছেন স্বাগতা নিজেই। তবু দু’জনেই সুযোগ পেলেই ঘুরতে বেরিয়েছেন। স্বাগতা নিজেই বলেছেন, ভ্রমণের টিকিট কাটা থাকার কারণে কিছু কাজ তিনি নেননি, যেগুলো পরে ব্লকবাস্টার হয়—তবে তাতে কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর।
আরও পড়ুনঃ ‘সবাই যদি অভিনয়গুণ দেখে…’ টলিউডে কাজ না পাওয়া নিয়েই মুখ খুললেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী! মুম্বই ইন্ডাস্ট্রিতে কীসের ভিত্তিতে সুযোগ পেয়েছেন অভিনেত্রী?
এই প্রেমের শুরুটা আজকের দিনের মতো সহজ ছিল না। কলেজ জীবনে মোবাইল ফোনের অভাবে কবিতা আর ১১-১২ পাতার চিঠিই ছিল যোগাযোগের মাধ্যম। সেই চিঠির প্রেম আজ ৩১ বছরে পা দিয়েছে। স্বামী জয়ের চোখে স্বাগতা একেবারে পারফেকশনিস্ট—ঠিক আমির খানের মতো। অগোছালো স্বভাবের জয়ের সঙ্গে এই পার্থক্য থাকলেও, বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই এতটা পথ একসঙ্গে হেঁটেছেন তাঁরা।
