ছোটবেলা থেকেই মায়ের আচার আর বিশ্বাস দেখেই বড় হয়েছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত। সেই দেখাদেখিই তাঁর জীবনে শিবরাত্রি কেবল একটি ধর্মীয় দিন নয়, বরং অন্তরের এক গভীর অনুভূতির সময়। সাধারণত এই পুণ্য তিথিতে পরিবারের মহিলাদের মন্দিরমুখী হতে দেখা গেলেও দত্ত পরিবারে ছবিটা খানিক আলাদা। এখানে ভক্তি ব্যক্তিগত সাধনা, নিয়মের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস। শিবরাত্রির আগের দিন থেকেই নিরামিষ ভোজন শুরু করেন অভিনেতা। তাঁর কাছে এই দিনটি আচার পালনের নয়, বরং আত্মিক সংযোগের দিন।
এই বিশেষ দিনে ঠিক কী নিয়ম মানেন তিনি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দিব্যজ্যোতির সহজ উত্তর, সবটাই মনের ব্যাপার। তাঁর মতে ঈশ্বর কখনও কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেন না, মানুষ নিজের মতো করে বিশ্বাসের পথ বেছে নেয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন, কখনও তাঁর মা নির্জলা উপোস থেকেছেন, আবার কখনও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল বা চা খেয়েছেন। তাই এবারের শিবরাত্রিতেও তিনি নিজেকে কোনও কঠোর নিয়মে বাঁধছেন না। তাঁর কাছে ভক্তি মানে ভেতরের অনুভূতি, বাহ্যিক অনুশাসন নয়।
শুধু উৎসব নয়, ছোট থেকেই আধ্যাত্মিক ভাবনার প্রতি আলাদা টান রয়েছে তাঁর। ঈশ্বরচিন্তা, ধর্মীয় দর্শন, আধ্যাত্মিক গ্রন্থ পাঠ— এসব তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। নিজেকে বিশেষজ্ঞ দাবি না করলেও বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করতে ভালবাসেন। তবে কিছু প্রচলিত ধারণা তাঁকে বিরক্ত করে। বিশেষ করে দেবতাকে ঘিরে ভুল ব্যাখ্যা বা অবমাননাকর মন্তব্য তিনি মেনে নিতে পারেন না। বিশ্বাসের জায়গাটাকে তিনি সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখেন।
দিব্যজ্যোতির মতে, ধর্ম বা ভক্তির প্রকৃত অর্থ মানুষ ভুলে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, আধ্যাত্মিকতার মূল কথা হল আত্মশুদ্ধি ও উপলব্ধি, যা বাহ্যিক প্রদর্শনের সঙ্গে যুক্ত নয়। দেবতা সম্পর্কে অযথা কৌতুক বা বিকৃত ধারণা তৈরি হলে তা সমাজের ভক্তিমূলক সংস্কৃতিকে আঘাত করে বলেই মনে করেন তিনি। একইভাবে ধর্মীয় প্রতীক বা প্রতিমার প্রতি তির্যক দৃষ্টিভঙ্গিও তাঁকে কষ্ট দেয়। তাঁর কাছে বিশ্বাস মানে সম্মান, আর সেই সম্মান রক্ষা করাই প্রকৃত ভক্তির লক্ষণ।
আরও পড়ুনঃ অর্থনীতিতে স্নাতক! মঞ্চের টানে বাড়ির অমতে অভিনয়ে আসা! তবে রয়ে গেলেন মা, মাসি, জেঠির চরিত্রেই! ‘আমার নিজের কোনও গল্প নেই! আমি যেন অন্যের গল্পের অংশমাত্র’ আক্ষেপ তনুকার?
এ বছরও শিবরাত্রির রাতে জেগে প্রার্থনায় সময় কাটাবেন অভিনেতা। যদিও কঠোর নিয়ম পালন করা তাঁর পক্ষে সহজ নয়, তবুও নিজের মতো করে দিনটিকে বিশেষ করে তোলেন তিনি। উপোস সম্পূর্ণ না হলেও নিরামিষ ভোজন, ধ্যান আর প্রার্থনার মধ্য দিয়েই পালন করেন এই তিথি। তাঁর মতে, ভক্তির গভীরতা মাপা যায় না আচার দিয়ে, বরং মনের নিষ্ঠাই সবচেয়ে বড় সাধনা। সেই বিশ্বাস নিয়েই প্রতি বছর শিবরাত্রি তাঁর জীবনে ফিরে আসে নতুন অনুভূতি হয়ে।
