বাংলা পরিবারের চেনা প্রথা মানেই অন্নপ্রাশনের দিন মামার হাতে প্রথম ভাত খাওয়া। বহু বছর ধরে চলে আসা এই রীতিই যেন অলিখিত নিয়ম। কিন্তু সেই ধারণাতেই বদল আনলেন অভিনেত্রী দেবচন্দ্রিমা সিনহা রায়। সম্প্রতি দিদির ছেলে অদ্ভিকের অন্নপ্রাশনে তিনিই খুদেকে প্রথম পায়েস খাইয়ে নতুন এক দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়া সেই মুহূর্তের ছবি ইতিমধ্যেই মন ছুঁয়েছে অনুরাগীদের। ছোট্ট অদ্ভিককে কোলে নিয়ে দেবচন্দ্রিমার স্নেহমাখা হাসি যেন উৎসবের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছে। পরিবারের উষ্ণতা আর ভালোবাসায় ভরা সেই আয়োজন যেন এক নতুন বার্তা দিল।
বাঙালি ঘরে সন্তানের জন্মের ছয় মাস পর মুখেভাতের অনুষ্ঠান ঘিরে থাকে আলাদা আবেগ। এদিন প্রথমবার শিশুর মুখে ভাত বা পায়েস তুলে দেওয়া হয়। প্রচলিত রীতিতে এই দায়িত্ব পালন করেন মামা, তাই অনেকেই একে মামা ভাত বলেই জানেন। তবে দেবচন্দ্রিমাদের পরিবারে সেই চেনা নিয়মে বদল এসেছে ভাবনার জোরে। দুই বোনের সংসারে ভাই না থাকলেও অনুষ্ঠান যে থেমে থাকবে না, সেটাই প্রমাণ করলেন তাঁরা। ইচ্ছে করলে নিকট আত্মীয়দের কাউকে দিয়ে প্রথা মেনেই আয়োজন করা যেত, কিন্তু পরিবার বেছে নিল অন্য পথ।
দেবচন্দ্রিমা নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর মা চেয়েছিলেন মাসি ভাত হোক। সেই ইচ্ছেকেই সম্মান জানিয়ে দিদির ছেলেকে প্রথম পায়েস খাওয়ান তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁদের বাড়িতে সব ধরনের অনুষ্ঠান দুই বোনই সামলান। পুজো হোক বা অন্য কোনও পারিবারিক আয়োজন, দায়িত্ব নিতে তাঁরা পিছিয়ে যান না। তাই অদ্ভিকের অন্নপ্রাশনেও মাসির হাতেই প্রথম পায়েস তুলে দেওয়া যেন খুব স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত ছিল। এই সিদ্ধান্তে পরিবার যেমন খুশি, তেমনই উপস্থিত অতিথিরাও দেখলেন বদলে যাওয়া সময়ের ছবি।
অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা, হাসি আর ক্যামেরাবন্দি মুহূর্তগুলোয় ফুটে উঠেছে এক আধুনিক মানসিকতার ছাপ। প্রথা মানে যে অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং পরিস্থিতি আর ভালোবাসার ভিত্তিতে নতুন পথও তৈরি হতে পারে, সেটাই যেন বোঝালেন দেবচন্দ্রিমা। সমাজের অনেকেই যেখানে এখনও নির্দিষ্ট ভূমিকার গণ্ডিতে আটকে থাকেন, সেখানে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মাসি ভাতের এই আয়োজন হয়তো আগামী দিনে আরও অনেক পরিবারকে ভাবতে শেখাবে।
আরও পড়ুনঃ গায়িকা ইমন চক্রবর্তী নাচের মঞ্চে! বঙ্গবিভূষণ পেতেই পেশা বদলের সিদ্ধান্ত? গান ছেড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ নিলেন, বড়পর্দায় কোন ছবিতে দেখা যাবে তাঁকে?
কাজের ক্ষেত্রেও দেবচন্দ্রিমার উড়ান এখন বিস্তৃত। বাংলা ও হিন্দি দুই ভাষাতেই তিনি সমান দক্ষতায় কাজ করে চলেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে জানেন তিনি। অনুরাগীরা অপেক্ষা করছেন তাঁর নতুন প্রকল্পের জন্য। তবে আপাতত অদ্ভিকের মুখেভাতের সেই মিষ্টি মুহূর্তই যেন আলোচনার কেন্দ্রে। পরিবার, ভালোবাসা আর বদলে যাওয়া ভাবনার এই গল্প আরও একবার প্রমাণ করল, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই তৈরি হয় নতুন প্রথা।
