টলিউডে যেখানে সম্পর্কের ভাঙা গড়া প্রায় রোজকার ঘটনা, সেখানে একেবারে আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন ঋদ্ধি সেন ও সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থেকে তাঁদের সম্পর্ক আজ গভীর ভালোবাসায় পৌঁছেছে। শৈশবের সহজ সখ্য এখন পরিণত হয়েছে পরিণত বোঝাপড়ায়। ইন্ডাস্ট্রির ঝলমলে দুনিয়ার মাঝেও তাঁদের সম্পর্ক বরাবরই ছিল শান্ত, স্থির এবং আত্মবিশ্বাসী। শুধু একে অপরের সঙ্গেই নয়, দুই পরিবারের সঙ্গেও গড়ে উঠেছে উষ্ণ যোগাযোগ। বিশেষ করে ঋদ্ধির বাবা মা কৌশিক সেন ও রেশমি সেনের সঙ্গে সুরঙ্গনার সম্পর্ক যেন অনেক দিনের চেনা আত্মীয়তার মতোই স্বাভাবিক।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছেলের বিয়ে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন রেশমি সেন। ভক্তদের বহুদিনের প্রশ্ন কবে বিয়ে করছেন ঋদ্ধি ও সুরঙ্গনা, তার উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইনি স্বীকৃতির চেয়ে সম্পর্কের গভীরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, একসঙ্গে থাকা এবং একে অপরের পাশে থাকা সবচেয়ে বড় বিষয়। সন্তানদের উপর কোনও চাপ সৃষ্টি করতে চান না তিনি বা কৌশিক সেন। যখন ওদের মনে হবে তখনই বিয়ে করবে, না মনে হলে করবে না। এই স্বাধীনতাকেই তাঁরা প্রাধান্য দেন।
রেশমি আরও জানান, সুরঙ্গনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুর মতো। মেয়ের মতো করেই ভালবাসেন তাঁকে। সুযোগ পেলেই সাজিয়ে দিতে ভালবাসেন, নিজের শাড়ির ভান্ডারও খুলে দেন সুরঙ্গনার জন্য। সুরঙ্গনাও মাঝেমধ্যে এসে থাকেন তাঁদের বাড়িতে। কখনও আবার মজা করে হবু শাশুড়িকেও বকাঝকা করেন। সম্পর্কের এই স্বতঃস্ফূর্ততা তাঁদের পরিবারের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বাইরে থেকে দেখলে বোঝাই যায় না, এটি এখনও আনুষ্ঠানিক বিয়ের বন্ধনে বাঁধা হয়নি।
সবচেয়ে আবেগঘন জায়গাটি কৌশিক সেন ও সুরঙ্গনার সম্পর্ক। বহুদিনের ইচ্ছে ছিল তাঁর একটি মেয়ে থাকুক। সুরঙ্গনাকে পাওয়ার পর সেই অভাব আর অনুভব করেন না তিনি। রেশমির কথায়, সুরঙ্গনা বাড়িতে না থাকলে কৌশিক সেন খুব মনখারাপ করেন। বারবার বলেন, সুরু চলে গেল। তাঁর অনুপস্থিতি মেনে নিতে কষ্ট হয়। এই টান কেবল আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের নয়, বরং গভীর আত্মিক বন্ধনের পরিচয় দেয়।
আরও পড়ুনঃ “আমার হিরো!” চর্চিত প্রেমিক সাহেবকে ট্যাগ করে, প্রোফাইল থেকে সরাসরি প্রেমের আভাস! সুস্মিতার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে, ভক্তরা খুঁজছে সম্পর্কে সিলমোহরের ইঙ্গিত?
দুই পরিবারের এই সেতুবন্ধন আজকের প্রজন্মের কাছে এক অনন্য উদাহরণ। সম্পর্ক মানেই শুধু বিয়ে নয়, বিশ্বাস ও সমর্থনও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা যেন প্রমাণ করছেন ঋদ্ধি ও সুরঙ্গনা। নিজেদের কাজ ও কেরিয়ারে ব্যস্ত থাকলেও একে অপরের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম তাঁরা। আর তাঁদের পাশে নিঃশর্ত সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দুই পরিবারের মানুষজন। ভালোবাসা যখন এমন সহজ ও স্বাভাবিক হয়, তখন সামাজিক স্বীকৃতি শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
