জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“মানিয়ে নিতে পারেননি, একঘেয়েমি নয়, ও চেয়েছে…” বি’স্ফোরক মন্তব্য বাবা কক্কর সিংয়ের! কেন নিয়মিত প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালেন অরিজিৎ সিং, সামনে এলো আসল কারণ?

শুধু বাংলা নয়, সারা দেশের সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে যাঁর নাম উচ্চারিত হয় গভীর আবেগে, তিনি অরিজিৎ সিং। জিয়াগঞ্জের মাটির গন্ধ মেখে উঠে আসা এই শিল্পী বহু বছর ধরে বলিউডের প্লেব্যাক দুনিয়ায় রাজত্ব করেছেন নিজের কণ্ঠের জাদুতে। তাই হঠাৎ করেই যখন তিনি ঘোষণা করেন যে আর নিয়মিত প্লেব্যাক করবেন না, তখন স্বাভাবিকভাবেই চমকে ওঠেন ভক্তরা। কেউ ভেবেছেন ক্লান্তি, কেউ ভেবেছেন ব্যক্তিগত কারণ। নিজে অরিজিৎ জানিয়েছিলেন, একঘেয়ে হয়ে উঠছিল সবকিছু। নতুন ধরনের সঙ্গীত নিয়ে কাজ করতে চান, স্বাধীন ভাবে সৃষ্টি করতে চান। পাশাপাশি নতুন শিল্পীদের জায়গা করে দেওয়ার ইচ্ছেও রয়েছে তাঁর মনে। এই সিদ্ধান্তে এবার মুখ খুললেন গায়কের বাবা কক্কর সিং।

কক্কর সিংয়ের কথায় উঠে এসেছে একেবারে অন্য ছবি। তাঁর মতে, মুম্বইয়ের চাকচিক্যময় জীবনযাত্রার সঙ্গে কোনওদিনই ঠিক মানিয়ে নিতে পারেননি অরিজিৎ। আলো ঝলমলে পার্টি, অ্যাওয়ার্ড শো কিংবা তারকাদের ভিড়ে নিজেকে কখনও স্বচ্ছন্দ মনে করেননি তিনি। বরাবরই এসব থেকে দূরে থাকতে চেয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষ হলেই চুপচাপ সরে যেতেন। অনেক সময় নিজের গাড়ির জন্যও অপেক্ষা করতেন না, অটো নিয়েই ফিরতেন ফ্ল্যাটে। এই সরল জীবনযাপনই নাকি তাঁর স্বভাব। তাই শহুরে ব্যস্ততার বদলে জিয়াগঞ্জের শান্ত পরিবেশই টেনেছে তাঁকে বারবার।

বাবার কথায় স্পষ্ট, ছেলের কাছে খ্যাতির চেয়ে বড় নিজের মাটির টান। জিয়াগঞ্জের নিস্তব্ধ সকাল, নিজের বাড়ির স্বস্তি আর পরিচিত মানুষের সান্নিধ্যই তাঁকে মানসিক শান্তি দেয়। সেই কারণেই প্লেব্যাক থেকে সরে এসে নিজের মতো করে গান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অরিজিৎ। তবে ভক্তদের জন্য সুখবরও রয়েছে। হাতে থাকা ছবির কাজ তিনি শেষ করবেন বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে চলতি বছর এবং আগামী বছরেও বেশ কিছু ছবিতে তাঁর কণ্ঠ শোনা যাবে। অর্থাৎ পুরোপুরি বিদায় নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু।

এই নতুন অধ্যায়েরই প্রথম ধাপ তাঁর স্বাধীন গান রয়না। প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই মুক্তি পেয়েছে এই গান। মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার ঝড় ওঠে। কেউ লিখেছেন, এই ধরনের গানই তাঁরা চেয়েছিলেন এতদিন। কেউ বলেছেন, মাধ্যম যাই হোক, অরিজিতের কণ্ঠই আসল আকর্ষণ। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, গানটির ধীর মিষ্টি আবহ মন ছুঁয়ে যায়। ভক্তদের আবেগে ভেসে গিয়েছে কমেন্ট বক্স।

সব মিলিয়ে অরিজিতের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁর শিল্পী সত্তার অন্য রূপ। জনপ্রিয়তার শিখরে থেকেও তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের স্বাচ্ছন্দ্য আর সৃজনের স্বাধীনতা। প্লেব্যাকের গণ্ডি পেরিয়ে এখন তিনি আরও বিস্তৃত আকাশে ডানা মেলতে চান। পরিবার তাঁর পাশে আছে, ভক্তরাও আছেন অটুট সমর্থনে। হয়তো নিয়মিত সিনেমার গান শোনা যাবে না আগের মতো, কিন্তু অরিজিতের কণ্ঠ যে থামবে না, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে রয়না। নতুন পথে হাঁটলেও হৃদয়ের সংযোগ যে অটুট, সেটাই আবার মনে করিয়ে দিলেন এই শিল্পী।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page