পর্দায় ঝলমলে আলো, প্রতিযোগীদের স্বপ্ন, বিচারকদের মন্তব্য আর অনন্য সব প্রতিভা মিলিয়ে রিয়্যালিটি শো (Reality Show) বহুদিন ধরেই দর্শকদের কাছে পারিবারিক বিনোদনের অন্যতম উৎস। কিন্তু সেই আকর্ষণের পাশাপাশিই বরাবর একটা সংশয়ও কাজ করে। আদৌ কতটা বাস্তব এই অনুষ্ঠানগুলো? সবকিছু কি আগে থেকে ঠিক করা থাকে? যোগ্যতার বদলে পছন্দ ও অপছন্দ কি ফল নির্ধারণ করে? এই প্রশ্নগুলো নতুন নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের কৌতূহল যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে সন্দেহও।
এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এক আলাপচারিতায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন ‘শ্রেয়া ঘোষাল’ (Shreya Ghoshal)। গত কয়েক বছর ধরে তিনি ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর (Indian Idol) বিচারকের আসনে রয়েছেন। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, এতদিন ধরে একই ধরনের শোয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার পেছনে কারণ কী? তাঁর বক্তব্য, প্রতিভাবান প্রতিযোগীদের উপস্থিতিই তাঁকে সেখানে ধরে রেখেছে। এতদিন ধরে কেবল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করা সম্ভব নয়।
ভালো না লাগলে সেই জায়গায় টিকে থাকা কঠিন, তবে কখনও কখনও আবেগে ভেসে যাওয়া বা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হওয়ার মুহূর্তগুলোও তাঁর কাছে একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত এবং বাস্তব। তবে, আরও একটি অভিযোগ প্রায়ই ওঠে যে রিয়্যালিটি শো কি ইচ্ছাকৃতভাবে নাটকীয় পরিবেশ তৈরি করে? শ্রেয়ার মতে, মঞ্চের কিছু মুহূর্ত বিনোদনের অংশ পরিকল্পিত হতে পারে, কারণ দর্শককে একটানা গানের মধ্যে ধরে রাখা সবসময় সহজ নয়। এই ছোট ছোট মুহূর্ত, পর্বগুলোতে প্রয়োজনীয় বলেই মনে করেন তিনি।
কিন্তু তার মানে এই নয় যে পুরো অনুষ্ঠানটাই সাজানো। তাঁর অভিজ্ঞতায় গানের বিচার, প্রতিযোগীদের পরিশ্রম এবং প্রস্তুতির জায়গায় কোনও কৃত্রিমতা থাকে না। অনেকেই মনে করেন, আবেগঘন গল্পগুলো বাড়তি দর্শক পাওয়ার কৌশল। এই ধারণার সঙ্গেও পুরোপুরি একমত নন তিনি। তাঁর পর্যবেক্ষণ বলছে, দর্শক শুধু গানই শোনেন না, গায়কের জীবনের পথচলাও জানতে চান। কোনও প্রতিযোগী জিতুক বা না জিতুক, তার জীবনের লড়াইয়ের গল্প মানুষ মনে রাখে। অনেক সময় দেখা যায়, নাম ভুলে গেলেও সেই বিশেষ ঘটনার কথা দর্শক স্মরণে রাখেন।
আরও পড়ুনঃ “মানিয়ে নিতে পারেননি, একঘেয়েমি নয়, ও চেয়েছে…” বি’স্ফোরক মন্তব্য বাবা কক্কর সিংয়ের! কেন নিয়মিত প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালেন অরিজিৎ সিং, সামনে এলো আসল কারণ?
সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কারণেই শিল্পী এবং শ্রোতার মধ্যে আলাদা এক সংযোগ তৈরি হয়। এই মন্তব্য থেকে বলাই যায়, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি একপেশে নয়। রিয়্যালিটি শোকে পুরোপুরি কৃত্রিম বলে উড়িয়ে দেওয়াও যেমন ঠিক নয়, তেমনই একে সম্পূর্ণ বাস্তব ভাবাও সরলীকরণ। বিনোদনের প্রয়োজনে কিছু উপস্থাপনা সাজানো হতে পারে, কিন্তু প্রতিভা আর আবেগের জায়গায় যে সত্যিকারের অনুভব কাজ করে, সেটাই শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনে ছাপ ফেলে। আর সেই জায়গাটাকেই তিনি রিয়্যালিটি শোয়ের আসল শক্তি বলে মনে করেন।
