ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবলীনা ভট্টাচার্য খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হন। শৈশবেই বাবাকে হারানোর পর পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তাঁকে মায়ের পাশে দাঁড়াতে হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতার কথা খোলামেলা ভাবে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
দেবলীনা জানান, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১১ বছর। সেই সময় তাঁর মা স্কিৎজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia) রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অসুস্থতা বাড়লে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা দায়িত্ব একাই সামলাতে হত তাঁকে। পরিবারের পাশে তেমন কেউ না থাকায় খুব ছোট বয়সেই অনেক কিছু শিখে নিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
অভিনেত্রী বলেন, তাঁর মায়ের জীবনও সহজ ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন তিনি। দেবলীনার কথায়, একজন একা নারী কতটা লড়াই করতে পারেন তা তাঁর মায়ের জীবন দেখলেই বোঝা যায়। সংসার সামলানো এবং সন্তানদের বড় করা সবই তাঁকে একাই করতে হয়েছে।
এখনও তাঁর মা প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ১৯ ধরনের ওষুধ খান। তাঁর ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েডের মতো সমস্যা রয়েছে, পাশাপাশি স্কিৎজোফ্রেনিয়ার প্রভাবও আছে। এই রোগে অনেক সময় রোগীর মনে হয় কেউ তার সঙ্গে কথা বলছে বা আশপাশে কেউ আছে, যদিও বাস্তবে তা থাকে না।
আরও পড়ুনঃ “আমি এখন বিপন্মুক্ত” গাড়ি হয়েছিল মা’রাত্মক ক্ষ’তিগ্রস্ত, ভাগ্যক্রমে প্রাণ রক্ষা! সাঁতরাগাছিতে ভ’য়াবহ দুর্ঘ’টনা, মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে কী জানালেন কবি শ্রীজাত?
দেবলীনা জানান, শুরুর দিকে তাঁর মা অনেক সময় ওষুধ খেতে চাইতেন না। তখন কখনও কখনও খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে খাওয়াতে হত। অভিনেত্রীর কথায়, যখন পাশে কাউকে পাওয়া যায় না তখন মানুষকে নিজের চেষ্টাতেই বড় হতে হয়। সেই অভিজ্ঞতাই খুব অল্প বয়সেই তাঁকে দায়িত্বশীল ও পরিণত করে তুলেছে।
