গ্রীষ্মের তাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এমন কিছু মজাদার পানীয় রয়েছে, যা শুধু শরীরের তৃষ্ণাই মেটায় না, মনকেও প্রশান্তি দেয়। একথা বলা যেতে পারে যে, দক্ষিণ ভারতের পানীয়গুলোর মধ্যে এমন একটি আছে, যা শুধু স্বাদে নয়, স্বাস্থ্যেও উপকারে আসে। এই পানীয়টির ইতিহাস প্রায় ৩,০০০ বছর আগের। মন্দিরে এক সময় এটি ভোগ হিসেবে পুজোর পর ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হত। তবে শুধু ধর্মীয় গুরুত্বেই নয়, এর পেছনে রয়েছে অনেক বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক দিকও!
আসলে, এই পানীয়টির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা যেকোনও গরম দিনে দেহের ভিতরকার তাপ কমিয়ে শীতলতার অনুভূতি এনে দেয়। বিশেষত রাম নবমীর সময় মন্দিরে এটি নিয়মিতভাবে তৈরি করা হত, যেখানে এর মধ্যে থাকা উপকরণগুলোর সমন্বয়ে তৈরি শরবত ভক্তদের শরীর ও মনকে শীতল করে তুলত। আজও বেঁচে থাকা হাজার হাজার বছরের এই পানীয়টি, আধ্যাত্মিক দিক থেকেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
ভক্তদের বিশ্বাস ছিল যে, এটি রামের প্রিয় পানীয় এবং তাই মন্দিরে রাম পূজিত হলে তাঁর সেবার জন্য এটি তৈরি করা হত। পানীয়টির নাম পানাকম (Panakam)। আর এর উপকরণগুলোর মধ্যে আছে কিছু অতি পরিচিত, কিন্তু একসাথে মিশে এই পানীয়কে তৈরি করে এক স্বর্গীয় তরলে। গুড়, এলাচ, গোলমরিচ, লেবু, আদা, তুলসীপাতা, কর্পূর, এসব উপকরণ একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি মনও প্রশান্ত করে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও এই পানীয়ের ঔষধি গুণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
যেখানে বলা হয়েছে, এটি পিত্তের দোষ দূর করে এবং হজমের সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। যেহেতু এই পানীয়টির ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরানো, তাই এর একটি গভীর ঐতিহ্যও রয়েছে। তবে শুধু ঐতিহ্য বা ধর্মীয় দিক থেকে নয়, এর স্বাদ ও স্বাস্থ্যগত গুণাবলীর জন্যও এটি প্রিয় হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে। একে শুধু মিষ্টি শরবত বললেই ঠিক হবে না। এটি একটি প্রাকৃতিক উপায়, শরীরকে প্রশান্ত করে এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে, পানাকম তৈরি করতে গেলে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে।
আরও পড়ুনঃ রায়ানকে বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে এনেই, কষিয়ে গালে চড় দিল পারুল! রায়ানের জীবন থেকে চিরতরে সরে যাওয়ার আশ্বাস! ‘পরিণীতা’য় রায়ান-পারুলের ভালোবাসায় নতুন মোড়!
যেমন গুড় (এক কাপ), চারটে এলাচ, এক চামচ গোলমরিচ ইত্যাদি ভালোভাবে গুঁড়ো করে রাখতে হবে যাতে সব মশলা ভালোভাবে একসাথে মিশে গিয়ে তার স্বাদ ঠিকঠাক আসে। এছাড়াও লাগবে একটা লেবুর রস, একমুঠো তুলসী পাতা, ঠান্ডা জল, অল্প একটু আদার গুঁড়ো আর সামান্য পরিমাণে কর্পূর। সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে মাত্র পাঁচ মিনিট রাখলেই তৈরি হয়ে যাবে। এতটুকু সময় দিলেই এই শরবত তৈরি হয়ে যাবে যা ৩,০০০ বছর ধরে পরম স্নিগ্ধতায় পরিবেশন করা হয়ে আসছে। আপনি কবে বানাচ্ছেন?
