জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“বুঝেছিলাম ভুল পথে আছি” বাবার বয়সী মুসলিমকে ১৮-তেই বিয়ে, টিকল না এক বছরও! কঠিন সময় পেরিয়ে আজকের সাফল্যের গল্প শোনালেন সুনিধি চৌহান!

সুনিধি চৌহান আজ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় গায়িকা, তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ অসংখ্য শ্রোতা। কিন্তু এই সাফল্যের পথে পৌঁছনোর আগে ব্যক্তিগত জীবনে তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অল্প বয়সেই জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে কোরিওগ্রাফার ববি খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই সময় এই সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মে বিয়ে হওয়ায় তাঁর বাবা-মা এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। এর ফলে পরিবার থেকেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তাঁর। সব মিলিয়ে জীবনের সেই সময়টা ছিল ভীষণ কঠিন।

বিয়ের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কে সমস্যা শুরু হয়। মাত্র এক বছরের মধ্যেই সেই দাম্পত্য ভেঙে যায়। বয়সে প্রায় ১৫ বছরের বড় ছিলেন ববি খান, আর সেই সম্পর্কের মধ্যে থেকেই সুনিধি বুঝতে পেরেছিলেন কিছু ঠিক নেই। তিনি পরে এক সাক্ষাৎকারে জানান, সম্পর্কের মধ্যে থাকতেই তিনি বুঝেছিলেন এটি তাঁর জন্য সঠিক জায়গা নয়। তবুও তিনি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই কঠিন সময় স্থায়ী হবে না। সেই সময়টা তাঁর কাছে মানসিকভাবে খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল।

২০০৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ডিভোর্সি হওয়া সহজ ছিল না। সমাজের অনেকেই তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য করতেন। তাঁকে নিয়ে কটু কথা বলা হত, এমনকি অনেকেই তাঁকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করেন। সেই সময় সমাজের মানসিকতা ছিল আরও বেশি রক্ষণশীল। ফলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া একজন তরুণীর জন্য সহজ ছিল না। তবে এই নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি সুনিধি। বরং নিজের সিদ্ধান্তে তিনি দৃঢ় ছিলেন এবং এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সুনিধির মতে, অনেকেই তাঁর অল্প বয়সে বিয়ে করাকে ভুল বলে মনে করেন। কিন্তু তিনি এই অভিজ্ঞতাকে অন্যভাবে দেখেন। তাঁর কথায়, জীবনের সেই সময়টা না থাকলে তিনি আজকের মানুষ হয়ে উঠতে পারতেন না। তিনি মনে করেন, জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও শক্ত করেছে। তাই তিনি এই অধ্যায়কে আফসোস হিসেবে নয়, শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেন। ভুল সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তকেই তিনি নিজের জীবনের বড় জয় বলে মনে করেন।

বিচ্ছেদের পর তাঁর কাছে তেমন কোনও সঞ্চয় বা স্থিতি ছিল না। সেই সময় কিছু মানুষের সাহায্য এবং পরে পরিবারের সমর্থন তাঁকে আবার দাঁড়াতে সাহায্য করে। ধীরে ধীরে নিজের কেরিয়ারে মন দেন এবং আবার সফলতার পথে এগিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০১২ সালে হিতেশ সোনিককে বিয়ে করেন তিনি। এখন তিনি একজন সফল শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি সুখী পরিবার জীবনও কাটাচ্ছেন। জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে আজ তিনি অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page