রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ছয় দিন পার হলেও বিতর্কের আগুন কমেনি। তার পরেও প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এখনও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আর্টিস্ট ফোরাম। অবশেষে শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের ডেকে জানানো হয়েছে, আগামী শনিবার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার নামে FIR দায়ের করা হবে। আর্টিস্ট ফোরাম রাহুলের মৃত্যুর সুষ্ঠ তদন্ত চায়, তবে অভিনেতা জীতু কমলের মন এখনও শান্ত নয়।
জীতু কমল রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই সরব। রাজ চক্রবর্তীর ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রাহুলকে গোটা বাংলা চেনে, এবং বর্তমানে জীতু সমনামের মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করছেন। জীতু জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আর্টিস্ট ফোরামের উদাসীনতা ও অবহেলা তাকে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, “যে চলে গেছে তাকে ফেরানো সম্ভব নয়, কিন্তু যারা সেই পরিস্থিতিতে এড়িয়ে যেতে পারতেন তাদের প্রতি উদাসীনতা ঠিক নয়।” সেই শ্যুটিং-তেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কোনও সাহায্য বা সমর্থন পাননি।
জীতু আরও জানিয়েছেন, মাস কয়েক আগে ‘এরা মানুষ’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময়ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাকে। তার পরও একই প্রযোজনা সংস্থা তাকে শারীরিকভাবে কঠিন পরিবেশে কাজ করাতে বাধ্য করেছে। তার শ্বাসনালী আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সেক্রেটারি সেই সময়ও উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কার্যকর কিছু করেননি। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মনে করিয়েছে যে শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ নেই।
জীতু আরও প্রকাশ করেছেন, ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় চন্দননগরের গঙ্গার ধারে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নৌকায় শ্যুটিং করার চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সরাসরি জানিয়েছিলেন যে এমন শ্যুটিং করবেন না। তবে পরের দিন, শ্যুটিংয়ের শেষ দিন, প্রযোজনা সংস্থা তাকে গালি দিয়েছে এবং শারীরিকভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছে। জীতু সঙ্গে সঙ্গেই এই বিষয়টি আর্টিস্ট ফোরামে জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও ফোন বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই উদাসীনতার জন্য রাহুলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়ানক ঘটনার জন্য দায়ী মনে করছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ রাহুলের মৃ’ত্যুকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক! লীনার জবাবে অসন্তুষ্ট, প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের বিরুদ্ধে আজই এফআইআর দায়ের আর্টিস্ট ফোরামের!
শেষে জীতু বলেন, “ফোরামেরই আমি সদস্য ছিলাম, এবং আশা করেছিলাম তারা আমার কমপ্লেইন গুরুত্ব সহকারে দেখবে। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিল না। তাই এখন অন্তত মৃত শিল্পীর জন্য FIR দায়ের হওয়া উচিত। প্রমাণ স্বরূপ ভিডিও প্রকাশ করলেও ফোরাম কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এটাই সর্বনিম্ন প্রত্যাশা।” জীতুর কথায় বোঝা যাচ্ছে, শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।
