তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে। এই মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে শনিবার রাস্তায় নামেন ইন্ডাস্ট্রির একাংশ। আর্টিস্টস ফোরামের কয়েকজন সদস্যও এই আন্দোলনে যোগ দেন। একই দিনে রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে সঙ্গে নিয়ে রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে। প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে শিল্পীমহলে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোড়ন। নানা প্রশ্ন উঠছে এই মৃত্যু ঘিরে। তদন্তের দাবিতে চাপ বাড়ছে ক্রমশ।
এই প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা জিতু কমলও। তবে তাঁর উপস্থিতি ঘিরেই তৈরি হয় অন্যরকম পরিস্থিতি। রাহুলের সাদাকালো ছবিতে ফুলের মালা দেওয়া ছিল, যা স্বাভাবিকভাবেই শ্রদ্ধা জানানোর অংশ। কিন্তু সেই ছবির পাশেই দেখা যায় জিতু কমলের নিজের সাদাকালো ছবিতেও মালা পরানো হয়েছে। এই দৃশ্য অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি করে। কেন এমন করলেন তিনি, তা নিয়েও শুরু হয় আলোচনা। মিছিলের মাঝেই বিষয়টি নজর কাড়ে উপস্থিতদের। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।
এরপর মিছিল চলাকালীনই আর্টিস্টস ফোরামের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিতু। তিনি জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই আছেন যারা খুব পরিচিত নন, তাঁদের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাঁর অভিযোগ, কেউ প্রতিবাদ করলে বা নিজের অবস্থান জানালে তাকে আলাদা চোখে দেখা হয়। রাহুলকে তিনি সাহসী মানুষ বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, রাহুল নিজের মত প্রকাশ করতেন নির্ভয়ে। এই কারণেই হয়তো তিনি অনেকের কাছে আলাদা ছিলেন। জিতু দাবি করেন, শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা খুব জরুরি। কিন্তু বাস্তবে তা সবসময় হয় না বলেই তাঁর অভিযোগ।
জিতু আরও বলেন, তিনি নিজেও একসময় শুটিংয়ের সময় সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। সেই ঘটনায় তিনি আর্টিস্টস ফোরামের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাহায্য পাননি বলে দাবি করেন তিনি। বরং তাঁকে অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনায় ফোরামের দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি বলেই তিনি ক্ষুব্ধ। তিনি আরও জানান, অনেক সিনিয়র শিল্পীর কাছেও সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকেও তেমন সাড়া পাননি।
আরও পড়ুনঃ মাস কয়েক আগেই গায়ক স্বামীর অকাল প্রয়াণ! এবার আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি, গুয়াহাটির হাসপাতালে ভর্তি জুবিন-পত্নী গরিমা! কী হয়েছে? এখন কেমন আছেন তিনি?
কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন জিতু কমল। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, শুটিং চলাকালীন তাঁর জীবনও বিপদের মুখে পড়তে পারত। তবুও তাঁর অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। উল্টো প্রশ্ন তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই। তাঁর দাবি, প্রতিবাদী স্বভাবের জন্যই তাঁকে টার্গেট করা হয়। তিনি আরও বলেন, আর্টিস্ট ফোরামের কাজ হওয়া উচিত শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় তা দেখা যায় না। শেষমেশ তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, একদিন হয়তো তাঁর ছবিতেও মালা দেওয়া হবে। আর সেই কথারই যেন প্রতীকী প্রকাশ ঘটল এই মিছিলে।
