জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“যে সুযোগ ছেড়েছি, তা আর ফিরে পাব না…রাহুলের সঙ্গে কাজ করা হবে না কোনদিনও” আফসোসের মাঝেও তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন নবনীতা মালাকার! ‘ভোলেবাবা পার করেগা ২’-এর নায়িকা হতেন তিনিই! সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পেছনের গল্পটা কী?

টেলিভিশনের পর্দায় নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছিলেন নবনীতা মালাকার। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্র বেশ জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু সেই সময়েই জীবনের এক বড় সুযোগ হাতছাড়া হয় তাঁর। ‘ভোলেবাবা পার করেগা ২’-তে নায়িকার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েও শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। কারণ মাত্র চার দিনের নোটিসে পুরনো ধারাবাহিক ছেড়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে সেই সুযোগ চলে যায় অন্য এক অভিনেত্রীর হাতে, আর নবনীতার মনে থেকে যায় না পাওয়ার আক্ষেপ।

এই সিদ্ধান্ত কি পরে গিয়ে তাঁর কাছে ‘শাপে বর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে? কারণ যে অভিনেতার বিপরীতে কাজ করার কথা ছিল, সেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আজ আর নেই। এই প্রশ্নের উত্তরে নবনীতার কণ্ঠে মিশে থাকে আবেগ আর বাস্তবতা। তিনি স্পষ্ট জানান, এমন মর্মান্তিক ঘটনা কেউ আগে থেকে কল্পনাও করতে পারে না। বরং তাঁর কষ্ট এই জায়গায় যে, যেই ধারাবাহিকের জন্য এত বড় সুযোগ ছেড়ে দিলেন, সেই ধারাবাহিক থেকেই তাঁকে হঠাৎ বাদ দেওয়া হয়, তাও আবার কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই।

নবনীতার মতে, প্রযোজনা সংস্থাগুলোর এই ধরনের আচরণ শিল্পীদের জন্য ভীষণ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক সমস্যাও তৈরি হয়। তিনি বলেন, অভিনেতাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, ভেতরে ততটাই অনিশ্চয়তায় ভরা। তাই আজ তাঁর সবচেয়ে বড় আফসোস, রাহুলের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগটি আর কখনও ফিরে আসবে না।

শুধু সুযোগ হাতছাড়া নয়, শুটিং করতে গিয়ে একাধিক বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখিও হয়েছেন নবনীতা। ‘শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য’ ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যে ভেলায় শুয়ে থাকার সময় হঠাৎই তিনি দেখেন, তার চারপাশে সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভয়ঙ্কর সেই মুহূর্তেও শুটিং থামানো যায়নি। আবার ‘মঙ্গলচণ্ডী’ ধারাবাহিকে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ঝাঁপ দিতে গিয়ে গুরুতর চোট পান তিনি, যার ফলে গোটা পুজো তাঁকে বিছানায় শুয়ে কাটাতে হয়েছিল।

এই সমস্ত অভিজ্ঞতা থেকে নবনীতার উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে। তিনি মনে করেন, কোনও অভিনেতার মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর ক্ষতি নয়, তার পুরো পরিবারের উপর নেমে আসে অন্ধকার। ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেই শূন্যতা কখনও পূরণ করা সম্ভব নয়। কারণ একজন মানুষের অনুপস্থিতি মানে তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু জীবনের থমকে যাওয়া। তাই এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের নিরাপত্তা এবং মানবিকতা—এই দুই বিষয়কে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page