টলিপাড়ায় ফের অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার থেকে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে শুটিং বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির মূল কারণ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা। স্টুডিয়োর নিয়মিত কাজ থমকে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করা টেকনিশিয়ানরা। লাইট, ক্যামেরা আর শুটিংয়ের ব্যস্ততা থেমে যাওয়ায় তাঁদের রোজগারও বন্ধ। এই অবস্থায় অনেকের ঘরে আর্থিক টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই ইন্ডাস্ট্রির এই সংকটের সময়টা সকলের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এলেন অভিনেতা জিতু কমল নিজের ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুটিং বন্ধ থাকলেও তাঁদের পারিশ্রমিক তিনি নিজেই দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগে স্বস্তি পেয়েছেন সেই ইউনিটের বহু কর্মী। তাঁদের কথায়, এমন সিদ্ধান্ত আগে খুব একটা দেখা যায়নি। অনেকে বলছেন, একজন অভিনেতা এভাবে টেকনিশিয়ানদের কথা ভাবছেন, এটা সত্যিই নতুন অভিজ্ঞতা। এই ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রির ভিতরেও ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি পোস্টও করেন জিতু। সেখানে তিনি শুধু সাহায্যের কথা বলেননি, কিছু সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন। এর আগে রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে প্রতীকী প্রতিবাদ করায় তাঁকে অনেক কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল। কেউ কেউ তাঁর পদক্ষেপকে প্রচারের কৌশল বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, এখন থেকে তিনি নিজের কাজ খোলাখুলি সামনে আনবেন। কারণ এতে যদি কিছু মানুষের উপকার হয়, তাহলে তাতে সমস্যা কোথায়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সমালোচনার পরও তিনি নিজের অবস্থানে অটল।
জিতু আরও জানান, তিনি কোনও ধনী পরিবারের সন্তান নন। তবে তাঁর বাবা-মা তাঁকে শিখিয়েছেন, পাশে থাকা মানুষ কষ্টে থাকলে সাহায্য করতে হয়। নিজের আয় থেকে যতটা সম্ভব তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। এটাকে বড় কিছু বা দয়া হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, মাসের শেষে একটি নির্দিষ্ট আয় থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে। এটাই তাঁর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে করা কাজ। তাঁর কথায়, এই সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে জরুরি।
আরও পড়ুনঃ “যে সুযোগ ছেড়েছি, তা আর ফিরে পাব না…রাহুলের সঙ্গে কাজ করা হবে না কোনদিনও” আফসোসের মাঝেও তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন নবনীতা মালাকার! ‘ভোলেবাবা পার করেগা ২’-এর নায়িকা হতেন তিনিই! সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পেছনের গল্পটা কী?
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যদি তাঁর নিজের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তিনিও এই টেকনিশিয়ানদের কাছেই সাহায্য চাইবেন। এই কথায় তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে এমনিতেই টলিপাড়ার পরিবেশ ভারী হয়ে রয়েছে। তার উপর কর্মবিরতির কারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছিল প্রতিদিন। এই পরিস্থিতিতে জিতুর এই উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। বিশেষ করে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর ইউনিটের টেকনিশিয়ানরা এই সাহায্যে উপকৃত হচ্ছেন।
