টলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের জন্য গত সপ্তাহটি ছিল খুবই কষ্টকর। স্বামী অগ্নিদেবের দুইটি স্ট্রোকের পর তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। যদিও চিকিৎসার পরে অগ্নিদেব এখন কিছুটা সুস্থ, কিন্তু সুদীপা নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত বুধবার সুদীপাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তবে পরদিনই তিনি আবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যান। স্বামীকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময়ই তিনি পড়ে যান এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।
সুদীপা জানান, গত কিছুদিন ধরে তার শরীর ভালো কাজ করছিল না। মানসিক চাপ, শারীরিক দুর্বলতা, ঘুমের অভাব ও সঠিক খাবারের অনুপস্থিতির কারণে তার রক্তচাপ বেড়ে যায়, ফলে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। জরুরি চিকিৎসার পর সুদীপা বাড়ি ফিরেছেন, তবে ডাক্তাররা তাকে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার অবস্থা এখন ভালো, এবং তিনি স্বামী অগ্নিদেবের সঙ্গে বাড়ি ফিরে গেছেন।
অগ্নিদেবের শারীরিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি ভালো হয়নি। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তার শরীর দুর্বল এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাই তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুদীপা গত এক সপ্তাহে তার শয্যাশায়ী স্বামী এবং ছেলের দেখাশোনা করছেন, এবং একাই সবকিছু সামলাচ্ছেন। তার জন্য এটি একটি বিশাল চাপ ছিল, তবে তিনি এখন পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন।
অগ্নিদেবের প্রথম পক্ষের ছেলে আকাশও বর্তমানে বাড়িতে আছেন, তবে তারও কিছু শারীরিক অসুবিধা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তিনি মাইগ্রেনের কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ, কিন্তু ডাক্তাররা তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে সুদীপা, যিনি অনেকদিন ধরে এককভাবে পরিবারকে সামলাচ্ছেন, এখন নিজের স্বাস্থ্যও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ “পুরো পরিবার মিলে জীবন শেষ করে দেব…ঘুমোতে পারিনি রাতে” “আমাদের কি দোষ ছিল?” ইন্ডাস্ট্রির সিদ্ধান্তে রাতারাতি বন্ধ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সব ধারাবাহিক! সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজা-মধুবনী!
২০১৭ সালে আইনি বিয়ের মাধ্যমে অগ্নিদেব ও সুদীপার সম্পর্কের আরও একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিল। তবে তারা অনেক আগে থেকেই একে অপরের সঙ্গে ছিলেন। ২০১৮ সালে তাদের একমাত্র সন্তান আদিদেব জন্মগ্রহণ করে। অনেক চড়াই-উতরাই সত্ত্বেও এই দম্পতি একে অপরের পাশে থেকেছেন। সুদীপা নিজেই বলেছেন, “অগ্নিদেব আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়।” তাদের জীবন যেন এক সংগ্রামের ইতিহাস, যেখানে তারা একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল।
