জীবন কখনও সহজ পথ দেখায় না, বিশেষ করে যখন অর্থকষ্ট আর দায়িত্ব একসঙ্গে কাঁধে এসে পড়ে। তবুও কিছু মানুষ আছেন, যারা সেই কঠিন বাস্তবতাকেই শক্তিতে পরিণত করেন। ঠিক তেমনই এক গল্প কাটোয়ার এক সাধারণ গৃহবধূর, যার জীবনসংগ্রাম আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। প্রথম দেখায় তিনি একেবারেই সাধারণ একজন গৃহিণী, যিনি সংসারের সব দায়িত্ব সামলান নিঃশব্দে। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক অদম্য শিল্পীসত্তা।
সংসারের কাজের ফাঁকে, সময় পেলেই তিনি নিজের ভালোবাসার জগতে ডুবে যান। সেই জগতটাই তাঁর বেঁচে থাকার শক্তি, তাঁর নিজের পরিচয় গড়ার মঞ্চ। কাটোয়া মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা কাবেরী গোস্বামী শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি একাধিক শিল্পরূপে পারদর্শী। গান, নাচ এবং যাত্রা তিনটি ক্ষেত্রেই তাঁর সমান দক্ষতা নজর কেড়েছে। টলিউড থেকে বলিউড জনপ্রিয় গান ও নাচের পরিবেশনা যেমন করেন, তেমনি প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কাজও মঞ্চে তুলে ধরেন নিজের মতো করে।
প্রতিটি পরিবেশনাতেই ফুটে ওঠে তাঁর নিষ্ঠা আর ভালোবাসা। তাঁর এই সাফল্যের পথ কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন, সীমিত সুযোগ, সবকিছুর মাঝেই তিনি নিজের চর্চা চালিয়ে গেছেন। অনেক সময় হয়তো পর্যাপ্ত সুযোগ বা সমর্থন পাননি, কিন্তু হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিটি বাধাকেই তিনি নিজের শক্তিতে পরিণত করেছেন। এই জেদই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। শুধু কাবেরী নন, আর পুত্রও বেশ গুণী শিল্পী। তাঁর নাম কৌশিক গোস্বামী।
পেশা পৌরোহিত্য হলেও, প্রথম পছন্দ কবিতা। ছোট থেকেই আবৃত্তি করতেন, ইচ্ছে ছিল একদিন পত্রিকায় লেখা দেওয়ার। প্রথম যে লেখাটি তাঁর বেরিয়েছিল, আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘কালো পিঁপড়ে বাতাসা খাওয়া’। কবিতা লিখতে এবং পাঠ করতে খুবই ভালোবাসেন তিনি। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃ’ত্যুতে মনে ভাবনা আর পরিণত শব্দ চয়ন দিয়ে লিখেছেন একটি সুন্দর কবিতা, নাম ‘স্মরণে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়’।
একটি গানও লিখেছেন, ‘কী থেকে, কী হয়ে গেল’, যেটি সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করেছেন মা কাবেরী সমাজ মাধ্যমের পাতায়। বর্তমানে কাবেরী গোস্বামী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রায় অংশগ্রহণ করেন এবং বর্তমানে টালিগঞ্জে থাকছেন। গান, নাচ ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করে চলেছেন। তাঁর জীবন যেন একটাই বার্তা দেয় নিজের ইচ্ছে আর পরিশ্রম থাকলে কোনো বাধাই শেষ কথা নয়। কাটোয়ার এই গৃহিণী আজ প্রমাণ করে দিয়েছেন, স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে তা পূরণ করাও সম্ভব।
