টলিউড পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায় ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ। তার কোনও হদিস এখনও মেলেনি। এই দীর্ঘ সময় ধরে স্বামীকে খুঁজতে মরিয়া মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ থেকে কোনও স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় তার মানসিক অবস্থা এখন খুবই খারাপ। তিনি বললেন, “এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আগে কখনও হতে হয়নি। আমি জানি না, কোথায় যাব, কী করব। কিছুই বুঝতে পারছি না।”
মৌপিয়া আরও জানান, উৎসবের ল্যাপটপ বাড়িতেই পড়ে রয়েছে, যা আগে ভুলভাবে বলা হয়েছিল যে তিনি তা নিয়ে বেরিয়েছেন। কিন্তু ১৫ দিন পরেও কিছুই জানা যায়নি। পুলিশও স্পষ্ট কোনও তথ্য দেয়নি, যার ফলে তার উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এদিকে, মৌপিয়া বলেন যে তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। কিছুদিন ধরে তিনি অ্যালসারের সমস্যায় ভুগছেন, এবং বর্তমানে শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ। মানসিক দুশ্চিন্তা তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি জানান, উৎসবের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের এক বছরেরও বেশি সময় হয়েছে, এবং এতদিনের মধ্যে কখনও এমন কিছু ঘটেনি। উৎসব প্রতিদিনের মতো মিটিংয়ে যাওয়ার আগে তার কাছে সব তথ্য জানিয়ে যেতেন। কিন্তু এবার ১৫ দিন ধরে কোনও খবর নেই। এমন পরিস্থিতি তার জন্য একেবারে নতুন। তিনি জানান, ব্যাঙ্ক থেকেও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি, শুধু পুলিশ থেকেই কিছু শোনা গেছে। এই পরিস্থিতিতে মৌপিয়া তার নিজের কোনও দিশা খুঁজে পাচ্ছেন না।
মৌপিয়া বলেন, “আমার স্বামী নিখোঁজ, আর আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছি না। স্বামীর জন্য ভীষণ চিন্তা হচ্ছে।” তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক চাপও ক্রমেই বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিছুটা হলেও কাজ শুরু করবেন, যাতে তার জীবনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে, তবে ব্যক্তিগত জীবনে এই ধরনের পরিস্থিতি তাকে অনেকটাই বিপর্যস্ত করেছে।
আরও পড়ুনঃ গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি সোহেল দত্ত! আবেগপ্রবণ হয়ে, সবাইকে প্রার্থনা করতে অনুরোধ অভিনেতার মায়ের! হঠাৎ কী হয়েছে তাঁর, জানালেন অভিনেত্রী তিয়াসা লেপচা?
মৌপিয়া এখন তার লেখালেখির কাজ শুরু করার কথা ভাবছেন, যা তার জন্য কিছুটা আশার আলো হতে পারে। তিনি জানান, স্বামী নিখোঁজ হওয়ার কারণে তার মানসিক স্থিতিশীলতা বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে যতটুকু সম্ভব তিনি নিজেকে আগের মতো কাজে ফিরিয়ে আনতে চান। তার একমাত্র প্রার্থনা, “আমার স্বামী ফিরে আসুক, এবং আমরা আবার একসঙ্গে থাকতে পারি।”
