২০১২ সালে রাজা চন্দের পরিচালনায় ‘চ্যালেঞ্জ ২’ ছবির একটি গান, ‘পুলিশ চোরের প্রেমে পড়েছে’, এখনো শহরের প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে শোনা যায়। এই গানটি সরাসরি জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’য় ব্যবহৃত হয়নি, তবে এর থিম এখন সেই ধারাবাহিকের গল্পের অংশ হয়ে উঠেছে। যেখানে দুঁদে পুলিশ অফিসার জিৎ বসু (ফাহিম মির্জা) এবং চোর নিশা মিত্র (শ্রুতি দাস) একে অপরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছেন। জিৎ তার প্রেমের প্রস্তাব দিতে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে এবং নিশার মন একে একে গলতে শুরু করে। এরই মধ্যে, নিশার বিশ্বস্ত সহকারী ভানু (রৌনক খান) তাদের সম্পর্কের তৃতীয় পক্ষ হয়ে উঠেছে। ভানু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেনি, তবে সে নিশাকে ভালোবাসে। দর্শকদের মধ্যে এই নতুন রসায়ন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং তারা জিৎ-নিশার প্রেমের কাহিনি দেখতে প্রস্তুত।
ফাহিম মির্জা, যিনি জিৎ চরিত্রে অভিনয় করছেন, তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকের গল্পটি একেবারেই নতুন এবং প্রচলিত কাহিনির চেয়ে আলাদা। তিনি আরও জানান, “অপরাধী যদি সুন্দরী হন, তবে কি পুলিশ তার প্রেমে পড়তে পারে? যদিও এ ধরনের সম্পর্কের পিছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।” ফাহিমের মতে, এই প্রেমের গল্পে পুলিশ চোরের প্রেমের অবতারণা হয়েছে, তবে এর মধ্য দিয়ে হয়তো অপরাধীকে শোধরানোর চেষ্টা হচ্ছে। দর্শকদের মতে, এই নতুন টুইস্ট এবং গতি গল্পের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তিনি নিশ্চিত, দর্শকরা এই প্রেমের কাহিনিকে বেশ উপভোগ করছেন, কারণ এতে নতুনত্ব এবং উত্তেজনা রয়েছে।
অন্যদিকে, নিশার সহকারী ভানু চরিত্রে অভিনয় করা রৌনক খান জানালেন, ভানু তার প্রেমের অনুভূতিগুলি চেপে রেখেছে। তার কাছে, নিশা সৎ পথে ফিরলে তা তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তবে ভানু ভীত, কারণ সে জানে, নিশা যদি সত্যিই জিতের প্রেমে পড়ে, তাহলে সে তৃতীয় পক্ষ হয়ে যাবে। রৌনক এ বিষয়ে বলেন, “নিশা বরাবর ভানুকে আশ্বস্ত করেছে, যে প্রেমের অভিনয় করলেও, বিয়ে করবে না।” ভানুর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট, সে জানে নিশা তার বন্ধু হিসেবে থাকবে, তবে তা কখনো প্রেমের সম্পর্ক হবে না।
শ্রুতি দাস, যিনি নিশা চরিত্রে অভিনয় করছেন, বলেছেন, “এই গল্পটি এক ধরনের সুরে তৈরি হয়েছে, যা দর্শকদের দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণ করছিল।” তবে নিশার চরিত্র এত সহজে সাড়া দেবে কিনা, সে বিষয়ে অভিনেত্রী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বন্ধুত্ব থেকে প্রেম আসে, এবং তখন দুই বন্ধু একে অপরকে ভালোবাসতে শুরু করলে, পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।” শ্রুতির মতে, এই ত্রিভুজ সম্পর্কের মাধ্যমে যে নতুন গতি এসেছে, তা খুবই উপভোগ্য। তিনি আরও বলেন, “দর্শকরা এই ধরনের সম্পর্ক দেখতে অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করেছিলেন এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ জি বাংলার হাত ধরে ‘মেয়েবেলা’ জুটির প্রত্যাবর্তন! স্বীকৃতি-অর্পণ আবার একসঙ্গে ছোটপর্দায়! দেখা যাবে নতুন কোনও গল্পে?
‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকটি চিরাচরিত ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের বদলে কিছুটা নতুন স্বাদ নিয়ে এসেছে। এতে দর্শকরা যেমন একদিকে প্রেমের উত্তেজনা দেখতে পাচ্ছেন, তেমনি অন্যদিকে বন্ধুত্বের জটিলতা এবং বিশ্বাসের সমস্যাও ফুটে উঠছে। চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালকের কাছে এটি একটি চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ তারা জানতেন দর্শকরা সহজেই এই গল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন। তবে, এটি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ এই ধরনের সম্পর্ক এবং কাহিনির গভীরতা অনেকেই আগে দেখেননি।
