সুপ্রভাতের দিকে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে আসে দুঃসংবাদ। সম্প্রতি তিনি হারিয়েছেন তাঁর ননদকে। মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে এই শোক সংবাদ জানান সঞ্চালিকা। পোস্টে তিনি তাঁর প্রয়াত ননদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলি ভাগ করে নেন, যা দেখে প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর প্রিয়জনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ফুটে ওঠে। ছবিগুলিতে দেখা যায়, একসময় ননদ সুদীপার কোলে ছোট্ট ছেলে আদিদেবকে দেখাচ্ছেন, আবার কখনও তিনি সুদীপাকে খাইয়ে দিচ্ছেন।
এই আবেগপূর্ণ পোস্টে সুদীপা তাঁর ননদকে স্মরণ করে লিখেছেন, “ছোড়দি, তুমি আমাদের প্রতিটা হোলি এবং দীপাবলিকে বিশেষ করে তুলেছিলে। তুমি আমাদের পরিবারের নতুন সদস্যকে কীভাবে যত্ন নিতে হয়, তা শিখিয়েছিলে। যখন আমি এই পরিবারে নতুন ছিলাম, তুমি আমাকে অঙ্গীকারের মতো গ্রহণ করেছিলে। তোমার কাছে এত কিছু শিখেছি, যার জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ।” এমন একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করার পর, সুদীপা আরও লেখেন, “আমাদের হানিমুনের পরিকল্পনাও তুমি করেছিলেন। তোমার অভাব আমাকে ভীষণভাবে অনুভূত হচ্ছে, আর আমি জানি না কাকে ফোন করে আমার সব অভিযোগ শোনাবো।”
সুদীপা তাঁর পোস্টে তাঁর ননদের আত্মার শান্তি কামনা করে আরও লিখেছেন, “এই মুহূর্তে আমি কিছু বলতে পারছি না, তবে তোমার সুন্দর আত্মা শান্তিতে থাকুক। ওম শান্তি। ভালোবাসি, ছোড়দি।” সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই পোস্টটি প্রকাশের পর, অনেক অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীরা সুদীপার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক খবর, ওঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।” অন্য একজন লেখেন, “শান্তিতে থাকুন।”
সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে এই দুঃসংবাদ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। এর আগেও তিনি বেশ কিছু কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে তাঁর স্বামী অগ্নিদেবের শরীর খারাপ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। প্রথমে মাইগ্রেনের উপসর্গ মনে করে তিনি তা এড়িয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরে চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার অবনতি দেখার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর অগ্নিদেব কিছুটা সুস্থ হলেও, তাকে বাড়িতে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছিল।
আরও পড়ুনঃ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-এর মেয়ের চরিত্রে, ঝড় তুলছে ‘মিঠি’! কে এই তৃণা ঘোষ, যার অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক? ‘কমলা নিবাস’-এ এই খুদে শিল্পীর অভিনয়, কেমন লাগছে আপনাদের?
এমন পরিস্থিতির মধ্যে, সুদীপা আবার তার ননদকে হারানোর শোকভার মাথায় নিয়ে চলেছেন। এই দুঃখজনক ঘটনা সব মিলিয়ে সুদীপার জন্য এক কঠিন সময় নিয়ে এসেছে। শোকাহত হলেও তিনি তাঁর ননদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো স্মরণ করে তাঁর শোক প্রকাশ করছেন এবং সেই সময়গুলোকে চিরকাল মনে রাখার কথা বলেছেন। সঞ্চালিকা এবং তাঁর পরিবার কঠিন পরিস্থিতিতে একে অপরকে শক্তি জোগাচ্ছেন, আর সুদীপা তাঁর প্রিয়জনের স্মৃতির মধ্যে শক্তি খুঁজে পাচ্ছেন।
