ছোটপর্দার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজের চাপ প্রায় প্রতি দিনই বাড়তি। ১৪ ঘণ্টা শুটিং, কখনও আবার একদিনের শুটের জন্য ‘ডবল ইউনিট’ কাজ করতে হয়। অর্থাৎ, দিনের নির্ধারিত সময়ের থেকে বেশি কাজ করতে হয়, যা কর্মীদের জন্য প্রায় ‘ওভারটাইম’। এমন চাপের মধ্যেও আগামী ২৯ এপ্রিল, ভোটের দিন কি তারা ছুটি পাবেন? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। বেশিরভাগ ধারাবাহিকের শিল্পীরা জানালেন, ভোটের দিন তাদের ছুটি থাকবে, কিন্তু কোনো বাড়তি কাজ হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।
প্রযোজকরা জানিয়েছেন, এক দিনের ছুটিতে খুব বেশি চাপ হবে না। প্রায় সব ধারাবাহিকেরই ব্যাঙ্কিং বা মজুত পর্ব রয়েছে। অর্থাৎ, এক দিন শুটিং বন্ধ থাকলেও সম্প্রচারে কোনও সমস্যা হবে না। অনেক ক্ষেত্রে শুটিংয়ের জন্য ‘ডবল ইউনিট’ প্রয়োগ করতে হয়, তবে এক দিনের ছুটি পাওয়ার জন্য সাধারণত এমন কিছু করার দরকার পড়ে না। তবে কিছু শুটিং বা বিশেষ আউটডোর শুটিংয়ের পরিকল্পনা বদলানো হতে পারে, যদি অনুমতি না মেলে।
প্রখ্যাত অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন তাদের ছুটি থাকবে। তবে বাড়তি কাজ বা ডবল ইউনিটের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বর্তমানে ‘গঙ্গা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন এবং জানিয়েছেন, একদিনের ছুটির জন্য তাদের কর্মযজ্ঞে বিশেষ কোনও প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “যতটুকু জানি, আমরা ছুটি পাব। তবে শুটিংয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভোট দেওয়া হবে।” একদিনের জন্য কাজের চাপ না বাড়ানোর জন্য পরিচালকরাও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন।
‘শুধু তোমারই জন্য’ ধারাবাহিকের পরিচালক অনুপম হরি বলেন, ভোটের আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবারের শুটিংকে সম্ভবত তাড়াতাড়ি শেষ করার চেষ্টা করা হবে। তাঁর মতে, কিছু অতিরিক্ত শুটিং কাজ করা সম্ভব হলে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাঙ্কিং সম্পন্ন করা হবে। তবে তিনি এই শুটিংয়ের সময় ১৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করার পরিকল্পনা করছেন না। অনেক ধারাবাহিকের পরিচালকরা জানাচ্ছেন, একদিন ছুটিতে খুব বেশি চাপ হবে না, কারণ সাধারণত সমস্ত পর্বই আগে থেকে মজুত থাকে।
অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি, যিনি ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকে নায়িকা, জানিয়েছেন যে ভোটের দিন তাঁরা ছুটি পাবেন। তিনি বলেন, “ভোট মানেই উৎসব, তাই আমাদের শুটিং বন্ধ থাকবে।” অন্যদিকে, অভিনেত্রী অলিভিয়া সরকার ‘মিলন হবে কত দিন’ ধারাবাহিকের সেটে জানান, ভোটের দিন ছুটি থাকলেও কোনো বাড়তি চাপ নেই। কিছু আউটডোর শুটিংয়ের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু অনুমতি না মেলায় তা বাতিল করা হয়েছে। তাই চিত্রনাট্যে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু শুটিংয়ের রুটিনে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসছে না।
আরও পড়ুনঃ ‘কমলা নিবাস’-এ সাগরের মৃ’ত্যু দৃশ্যে কী ঘটল? শ্যুটিংয়ে রাহুলের অকালে প্রাণ হারানোর স্মৃতি এখনও টাটকা! পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নেওয়া হলো কোন বিশেষ পদক্ষেপ?
তবে, কিছু ধারাবাহিকের কাজের ধরন একেবারে ভিন্ন। যেমন ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের শুটিং কিছুদিন বন্ধ ছিল। সোমরাজ মাইতি, যিনি এই ধারাবাহিকের অভিনেতা, জানিয়েছেন যে সপ্তাহে পাঁচ দিন শুটিং হচ্ছে এবং তারা মোটেই অতিরিক্ত কোনো চাপ অনুভব করছেন না। তিনি বলেন, ভোটের দিন তাদের শুটিংও বন্ধ থাকবে, ফলে ছুটিতে কোনো সমস্যা হবে না।
