জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমার নাম ভুলে গেছি, সবাই ‘দিদি’ বলেই ডাকে” ১৪ বছর ধরে ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়! একঘেয়েমি আসেনি কখনও? ১৫০০তম পর্বের মাইলস্টোন ছুঁয়ে, অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন তিনি?

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালিকা, সম্প্রতি শুটিংয়ে হাজির হলেন এক বিশেষ মাইলস্টোন নিয়ে। রাঙা শাড়ি আর সাজ-সজ্জা নিয়ে ৯ নম্বর সিজ়নের দেড় হাজারতম পর্বের শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। সকাল থেকেই স্টুডিওতে ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। রচনা পোশাক পরেছেন চমৎকার, চোখে রোদচশমা, হাতে কড়া কফি নিয়ে মেকআপ রুমে ঢুকলেন। মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে সবকিছু শেষ করে শুটিং ফ্লোরে পৌঁছান তিনি, যেখানে তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিলেন একঝাঁক তারকা। ‘দিদি নম্বর ১’-এর এই স্পেশ্যাল এপিসোডের শুটিং শুরু হয়ে গিয়েছিল রচনার অনবদ্য হাসি আর সাবলীল ব্যবহারে।

শোটি তার কাছে যে শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং জীবনের এক বিশেষ অংশ হয়ে উঠেছে, সেটি স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় তার কথায়। রচনা জানিয়েছেন, ‘দিদি নম্বর ১’ তার কাছে অনেকটা জীবনের মাইলস্টোনের মতো। তিনি বলেন, “অনেক কিছু শিখেছি, বহু মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। শোয়ের মাধ্যমে নিজেকে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ পেয়েছি।” দীর্ঘ এই সময়ের অভিজ্ঞতা তাকে কেবল তারকারাই নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও জনপ্রিয় করেছে। নানা ধরনের মানুষের গল্প, তাদের সুখ-দুঃখ শোনার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

নিজের পরিবর্তন নিয়ে রচনা বলেন, “প্রতিটি পর্বের শুটিংয়ের পর নিজেকে এক নতুন জায়গায় অনুভব করি।” তবে তার মতে, একাধিক দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও মানুষের মুখে হাসি দেখতে পাওয়াই সবচেয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতা। এমনকি তিনি বলেন, শোটি তাকে কখনোই একঘেয়ে লাগেনি। অনেক সময় শুটিংয়ের তাগিদে দিনের পর দিন সেটে কাটাতে হয়েছে, কিন্তু প্রতিযোগীদের হাসি-খুশি তাকে নতুন করে চার্জ করে দিয়েছে। তিনি জানান, “সেটে ঢুকলেই যেন সব ক্লান্তি চলে যায়। এটা আমার কাছে ভিটামিনের মতো।”

তারকা হওয়া বা শোয়ের মধ্যে নিজেকে ধরে রাখা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা নিয়ে কথা বলার সময় রচনা বলেন, “‘দিদি নম্বর ১’ শোটি শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবনে প্রেরণাও হয়ে উঠেছে।” সারা বাংলার নানা বয়সী মানুষ তাকে ‘দিদি’ হিসেবেই চেনেন এবং ডাকেন। প্রতিযোগীদের পাশে থেকে তাদের সমস্যা শোনা, তাদের জীবন বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা, এইসব মুহূর্তই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রচনা আরও বলেন, “আমার নাম এখন ভুলে গেছি, সবাই আমাকে ‘দিদি’ বলেই ডাকে। এটা একধরনের চিরকালীন সম্পর্ক।”

প্রশ্নের উত্তরে রচনা তার ছেলের কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও তিনি বলেন, তার ছেলে ‘দিদি নম্বর ১’ খুব একটা দেখে না, তবুও তিনি জানেন, তার মায়ের কাজটি কীভাবে তাকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, “ছেলে জানে মা শুটিংয়ে থাকবে, তাকে পাওয়া যাবে না। তবে সে জানে, মা কতোটা এই শোয়ের জন্য উৎসর্গীকৃত।” তার কাছে, এই শোটি কেবল একটি ক্যারিয়ার নয়, একটি অভ্যস্ততা, একটি জীবনশৈলী হয়ে উঠেছে। শুটিংয়ের মাঝে কখনও যদি একঘেয়ে লাগে, তখন তিনি পছন্দ করেন ঘুরে বেড়াতে, যা তার জন্য এক ধরনের রিচার্জ হয়ে ওঠে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page