‘প্রত্যাবর্তন’ ছবিতে বাস্তব জীবনের টানাপোড়েনকে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন অঞ্জন দত্ত। তাঁর মতে, কর্মজীবন আর পরিবারকে একসঙ্গে সামলানো মোটেই অসম্ভব নয়। অনেকেই এই ভারসাম্য বজায় রাখেন। বিষয়টা আসলে নির্ভর করে ব্যক্তির জীবনদর্শনের উপর। ছবিতে তাঁর চরিত্রটি জীবনের অন্য দিক তুলে ধরে।
এক বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘এই রাত তোমার আমার’-এর পর এবার ‘প্রত্যাবর্তন’। পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তর ভাবনায় পুরুলিয়ার এক স্কুলশিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। নিজের ব্যক্তিত্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই চরিত্র দর্শকদের কতটা ছুঁবে, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও কাজের অভিজ্ঞতাই তাঁকে টেনেছে।
ছবির গল্পে বাবা ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত জীবনেও ছেলে নীলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা অঞ্জন। তাঁর কথায়, সন্তান বড় হয়ে বাবা মাকে দেখবে এই প্রত্যাশা তিনি কখনও রাখেননি। বরং প্রত্যেকের নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার রয়েছে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
বর্তমান চলচ্চিত্র জগতের কাজের ধরণ নিয়েও আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। আগে যেখানে ওয়ার্কশপ আর প্রস্তুতির উপর জোর দেওয়া হত, এখন সেই আন্তরিকতা অনেকটাই কমেছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এর কাজ তাঁর ভাল লাগে, কারণ তাঁরা এখনও অভিনয়কে গুরুত্ব দেন।
আরও পড়ুন : প্রয়াত পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়? স্বামীর ভুয়ো মৃ’ত্যুসংবাদ নিয়ে সমাজমাধ্যমে কি বললেন অভিনেত্রী, সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়?
ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি এবং ভেতরের দ্বন্দ্ব নিয়েও স্পষ্ট মত দিয়েছেন অঞ্জন। তাঁর মতে, এইসব বিষয় ব্যক্তিগত পরিসরেই থাকা উচিত। শিল্পের সঙ্গে রাজনীতি মিশে গেলে ক্ষতি হয় সৃজনশীলতার। পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে বাদল সরকারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি ছবি তৈরি করেছেন তিনি, যেখানে নিজের শিকড়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ফুটে উঠেছে।
