জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“দুপুরে বলেছিলেন মমতাই জিতবে, সন্ধ্যায় নীরব প্রস্থান!” ব্যারাকপুরে রাজ চক্রবর্তীর হারে উত্তাল গণনাকেন্দ্র, কাদা ছোড়া ও চোর চোর স্লোগানে চাঞ্চল্য

আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন কেন্দ্রের গণনা শুরু হতেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অস্বস্তিকর ট্রেন্ড সামনে আসতে থাকে। বহু জায়গায় বিরোধীদের এগিয়ে থাকার খবর মিলতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। সেই আবহে ব্যারাকপুর কেন্দ্রের ফলাফলের দিকেও বিশেষ নজর ছিল সবার। কারণ এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী ছিলেন পরিচালক ও তৃণমূল নেতা রাজ চক্রবর্তী। তারকা প্রার্থী হওয়ায় এই কেন্দ্রের ফল আলাদা গুরুত্ব পেয়েছিল। সকাল গড়াতেই স্পষ্ট হতে থাকে, শুরু থেকেই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছেন তিনি। গণনার প্রতিটি রাউন্ডে চাপ বাড়ছিল রাজের উপর।

ফল ঘোষণার আগে দুপুর পর্যন্তও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন, “মমতাই জিতবে।” দলের জয়ের বিষয়ে তাঁর ভরসা তখনও অটুট ছিল। এর আগেও নির্বাচনের প্রচারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা দুর্গার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। রাজের বক্তব্য ছিল, বাংলার মানুষ আবারও মমতার উপর আস্থা রাখবেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, রাজনৈতিক ছবিটা তত পাল্টাতে শুরু করে। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের পিছিয়ে পড়া স্পষ্ট হয়। একই সঙ্গে ব্যারাকপুরেও রাজের ব্যবধান ক্রমশ বাড়তে থাকে। দুপুরের আত্মবিশ্বাস বিকেলের দিকে চাপে বদলে যায়।

গণনার শেষ পর্বে এসে ব্যারাকপুর কেন্দ্রে রাজ চক্রবর্তীর পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর তিনি গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে সেই প্রস্থান মোটেই শান্তিপূর্ণ ছিল না। কেন্দ্রের বাইরে তখন জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। তাঁদের একাংশের তরফে কটূক্তি, স্লোগান এবং প্রতিবাদের আওয়াজ ওঠে। “চোর চোর” ধ্বনিও শোনা যায় বলে জানা যায়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় রাজ চক্রবর্তীর দিকে কাদা ছোড়ার ঘটনাও ঘটে, যা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর দলের কর্মীরা দ্রুত রাজকে ঘিরে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। উত্তেজিত পরিস্থিতিতে তাঁকে আর সেখানে বেশি সময় রাখা হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গোটা ঘটনার সময় রাজ চক্রবর্তীকে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়নি। তিনি হার নিয়ে কিছু বলেননি, বিক্ষোভ নিয়েও মুখ খোলেননি। ভোটের দিনও তিনি জানিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের ভোটে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই তিনি বুথে বেশি ঘোরাফেরা করতে চান না। তাঁর কথায়, “মানুষ নিজের মতো করে, নির্ভয়ে ভোট দিক।” ফলের দিনও একইভাবে নীরব থাকলেন তিনি।

৪ মে-র এই ফলাফল শুধু একটি কেন্দ্রের হারজিত নয়, রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট করে দিল। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল এবার বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল ব্যারাকপুরেও। তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর সম্ভাব্য হার রাজনৈতিকভাবে বড় ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দুপুরে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করা প্রার্থীকে সন্ধ্যার মধ্যে নীরবে বেরিয়ে যেতে হল। বাইরে বিক্ষোভ, কাদা ছোড়া, স্লোগান এবং উত্তেজনার মধ্যে দিনটি তাঁর জন্য কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। ব্যারাকপুরের এই ছবি এখন বাংলার নির্বাচনী ফলাফলের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page