বারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে, গতকাল ভোট গণনার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পরাজয়ের খবর সামনে আসতেই এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক হইচই ও অসন্তোষ। কিছু জায়গায় রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে “চোর চোর” স্লোগান শোনা যায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন তাঁর দিকে কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার মধ্যেও রাজ চক্রবর্তী শান্ত থাকেন এবং হাসিমুখে গণনাকেন্দ্র ছাড়েন। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিতর্ক। এরপর ধীরে ধীরে সামনে আসে তাঁর স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া। সব মিলিয়ে বারাকপুরের ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি হয়ে ওঠে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বারাকপুর কেন্দ্রে প্রথমবার জয় পান রাজ চক্রবর্তী। সেই সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। তার পাশে নিয়মিত দেখা গিয়েছিল স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে। দুজনের উপস্থিতি রোড শো ও প্রচারসভায় বিশেষ নজর কাড়ে মানুষের। স্থানীয় মানুষও সেই সময় তাঁদের ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনেও আবার একইভাবে প্রচারে অংশ নেন এই তারকা দম্পতি। “ব্লকবাস্টার” প্রচার হিসেবে তা রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় আসে। রাজ ও শুভশ্রীর উপস্থিতি প্রচারে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল এলাকায়।
ভোট গণনার দিন ফলাফল প্রকাশিত হলে রাজ চক্রবর্তীর পরাজয় স্পষ্ট হয়। এরপরই বারাকপুরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে শুরু করে। কিছু সমর্থক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। এই সময় রাজের বিরুদ্ধে “চোর চোর” স্লোগান ওঠার অভিযোগ সামনে আসে। এমনকি তাঁর দিকে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়। তবে পুরো পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজেকে সংযত রাখেন। গণনাকেন্দ্র থেকে তিনি শান্তভাবে এবং হাসিমুখে বেরিয়ে যান। এই দৃশ্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
ঘটনার পর প্রথমদিকে নীরব ছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি কোনও বক্তব্য না দিয়ে পরিবারের ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে রাজ চক্রবর্তীকে দেখা যায় সন্তান ইউভান ও ইয়ালিনির সঙ্গে। কিছু ছবিতে পারিবারিক মুহূর্ত এবং ভালোবাসার দৃশ্য উঠে আসে। তিনি একটি ক্যাপশনে লেখেন, “আমাদের সুপারহিরো, আমাদের গর্ব, আমাদের সুপারস্টার, আমাদের শান্তির জায়গা, আমাদের এক টুকরো পৃথিবী।” এই পোস্ট ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে এটিকে রাজের প্রতি নীরব সমর্থন হিসেবে দেখেন।
আরও পড়ুনঃ যে দল হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষা করবে আমি তাকেই সমর্থন করব! আমরা আগে হিন্দু পরে বাঙালি! বাংলায় গেরুয়া ঝড় দেখে মুখ খুললেন গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য!
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে রাজ চক্রবর্তী নিজের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আবার নতুন লড়াই। ৫ বছর নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি, আমার এলাকার মানুষরা এবারও আমাকে সমর্থন করবেন। পাশে থাকবেন। আমার এক্তিয়ারের মধ্যে এযাবৎকাল বিধায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দলও খুশি হয়ে আমাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করব।” এই বক্তব্যে তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২১ সালে প্রথমবার বিধায়ক হয়ে তিনি রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি আবারও দলের টিকিটে ভোটে লড়েন। সিনেমা জগতের পাশাপাশি রাজনীতিতেও তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর আগামী রাজনৈতিক পথ কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। সব মিলিয়ে বারাকপুরের ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতি এখন আলোচনায়।
