জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

জগদ্ধাত্রী ধারাবাহিকের সেটে রাজনৈতিক রঙের স্প’র্ধায় অভিনেতাকে হেয় করতেন ‘তৃণমূলী’ অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়! বি’স্ফোরক অভিযোগ সহ অভিনেতার

জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক ‘জগদ্ধাত্রী’-র শুটিং ফ্লোরকে ঘিরে নতুন বিতর্কে সরগরম টলিপাড়া। অভিনেতা সৌগত দাশগুপ্তের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে এই জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই পোস্টে তিনি সহ-অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এরপরই পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন ত্বরিতা। ফলে ছোটপর্দার এই বিতর্ক এখন দর্শকমহলেও আলোচনার বিষয়। কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মতভেদ কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। দুই অভিনেতার বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও শিল্পীমহলে নানা আলোচনা চলছে।

অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায় বহু ধারাবাহিকে পরিচিত মুখ। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর আরও একটি পরিচয় রয়েছে, তিনি প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা তরুণ কুমারের নাতবউমা। কয়েক বছর আগে অভিনেতা সৌরভ চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন তিনি। প্রধান চরিত্রে কম দেখা গেলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্র নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছিল। তবে এবার অভিনয়ের কারণে নয়, বরং শুটিং ফ্লোরের অভিজ্ঞতা ঘিরেই বিতর্কে নাম জড়াল তাঁর। সমাজমাধ্যমে ওঠা অভিযোগের পর সেই আলোচনা আরও বেড়েছে। অনেকে ঘটনার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

সম্প্রতি সৌগত দাশগুপ্ত একটি পোস্টে লেখেন, “যখন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জগদ্ধাত্রী’তে কাজ করছিলাম তখন মূল অভিনেতাদের-ই একজন অভিনেত্রী(যে তৃণমূল এর অন্ধ ভক্ত চটিচাটা), নাম যার ‘ত্বরিতা চ্যাটার্জি / Twarita Chatterjee’ কে আমি আর আমাদের একজন সিনিয়র অভিনেত্রী, তৃণমূল এর একটা ভুল কাজ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলাম।” তাঁর দাবি, সেই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। সৌগত আরও লেখেন, “সেই দিন থেকে সেই অভিনেত্রী(Twarita Chatterjee), শুটিং ফ্লোরে আমাকে রাজনীতি আর তৃণমূল আর বিজেপি নিয়ে পদে পদে অপদস্ত করে গেছে। অনেক খিল্লি করেছে আমাকে নিয়ে। আজকে আর চেপে রাখতে পারলাম না। বলে ফেললাম।” এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্কের শুরু।

নিজের পোস্টে সৌগত আরও জানান, “বি. দ্র. আমি এখনও অবধি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। তবে অবশ্যই একটা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ আছে।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই ত্বরিতা এবং তাঁর স্বামী সৌরভ চট্টোপাধ্যায় নাকি বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে সেই পোস্ট মুছে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমানে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন, কিন্তু নিজস্ব মতামত রয়েছে। অপমানজনক আচরণের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলেও জানান। এই বক্তব্য সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দুই পক্ষের বক্তব্য জানতে আগ্রহ দেখান।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে পাল্টা জবাব দেন। যদিও তিনি কোথাও সৌগতর নাম লেখেননি, তবে পোস্টটি যে তাঁর উদ্দেশেই করা, তা স্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকে। অভিনেত্রী লেখেন, “যে অভিনেতা (আমি তাঁর নাম উচ্চারণ করতে চাই না) আমাকে হেয় করার বা আমার নামে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করেছেন, আমি তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত বৈধ প্রমাণসহ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার মানে এই নয় যে কেউ কারওর ব্যক্তিগত সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে।” শেষে কড়া বার্তা দিয়ে জানান, এবার তাঁর হয়ে আইনই কথা বলবে। এই ঘটনার পর টেলিপাড়ায় নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page