জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

তৃণমূল ছেড়ে ফের বিজেপিতে ফেরার তোড়জোড়ের মাঝেই ‘বাংলার রাজনীতি ছাড়লাম’ পোস্ট রূপাঞ্জনার, পরিবার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা অভিনেত্রীর

সমাজমাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিস্ফোরক পোস্ট করে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে এলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি সরাসরি লিখেছেন, “বাংলার রাজনীতি ছাড়লাম”। এই এক লাইনের ঘোষণার পরই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন অভিনেত্রী, তা জানতে আগ্রহ বেড়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। পোস্টের সঙ্গে তিনি কয়েকটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন। সেই ছবিগুলি সামনে আসতেই বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের চাপ থেকেই এই সিদ্ধান্ত। অভিনেত্রীর পোস্ট মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।

শেয়ার করা স্ক্রিনশটগুলিতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য দেখা যায় বলে দাবি করেছেন রূপাঞ্জনা। শুধু তাই নয়, তাঁর অতীত সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ধর্ম নিয়েও অশালীন প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলেও তিনি জানান। অভিনেত্রীর কথায়, এই ধরনের বার্তা নতুন নয়, বরং বহুদিন ধরেই তিনি এমন আক্রমণের মুখে পড়ছেন। নিয়মিতভাবে কুরুচিকর মন্তব্য পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ব্যক্তিগত বিষয় টেনে এনে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান রূপাঞ্জনা। এসব ঘটনার জেরেই তিনি মানসিকভাবে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। সেই পরিস্থিতিরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টে।

নিজের পোস্টে রূপাঞ্জনা আরও লেখেন, তিনি যে স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন, তা কেবল দু’টি উদাহরণ মাত্র। তাঁর দাবি, এরকম আরও বহু মেসেজ তাঁর কাছে জমা রয়েছে। সব কিছু প্রকাশ্যে আনতে চাননি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি তিনি আবেদন জানিয়েছেন, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে যেন এই সব আক্রমণ থেকে দূরে রাখা হয়। পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে থাকতে চান বলেও জানান তিনি। পোস্টটি সামনে আসার পর অনুরাগীদের একাংশ প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করে সমর্থন জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রূপাঞ্জনা জানান, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতীতে নানা ভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন থেকে সামাজিক অবস্থান, সব কিছু নিয়েই আক্রমণ হয়েছে বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। বর্তমানে তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা পরিবার এবং সন্তানের নিরাপত্তা। সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পরিবারের সুরক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের চাপ ও অস্বস্তির পর অবশেষে সরে দাঁড়ানোর পথই বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী। এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় উঠে এসেছে।

রূপাঞ্জনা আরও স্পষ্ট করেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন না। যদিও একসময় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে তিনি ফের তৃণমূলের একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেই সময় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আর রাজনীতির সঙ্গে থাকতে চান না। তাঁর পোস্টে লেখা “বাংলার রাজনীতি ছাড়লাম” মন্তব্য সেই অবস্থানকেই স্পষ্ট করেছে। আপাতত অভিনয় এবং পরিবারকেই প্রাধান্য দিতে চান বলে মনে করা হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে আলোচনা এখনও চলছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page