বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের দিনেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে অভিনেতা সোহেল দত্ত। শুক্রবার বিজেপির তরফে শুভেন্দু অধিকারীকে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান সোহেল। আর সেই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কারণ, একসময় তিনিই প্রকাশ্যে বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাস করা তাঁর বড় ভুল ছিল। ছাব্বিশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করা সোহেলের এই আচরণকে ঘিরে নেটমাধ্যমে ‘ডিগবাজি’ তকমাও জুটেছে। রাজনৈতিক হাওয়া বদলাতেই অভিনেতার অবস্থান বদলের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। ফলে আবারও আলোচনায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সর্বত্র এখন সেই নিয়েই চর্চা চলছে।
সোহেল দত্ত ছোটবেলা থেকেই দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ। শিশুশিল্পী হিসেবে বাংলা বিনোদন জগতে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল যথেষ্ট। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন একের পর এক টলিউড তারকা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছিলেন, সেই সময় সোহেলও গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। ওই সময় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল নিয়মিত। তবে সেই সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তিনি বিজেপি থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। পরে প্রাক্তন শাসকদলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায় এবং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অবস্থানও বদলাতে শুরু করেন তিনি।
বিজেপি ছাড়ার সময় সোহেল একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “উনি আমার বাড়িতে এসে মা-বাবাকে বলে যান, আপনার ছেলের দায়িত্ব আমার। যদিও বাবা-মা বারণ করেছিল। কিন্তু আমি একটা ভুল করে বসি শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাস করে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, “আমি আসলে বিজেপিতে গিয়েছিলাম রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে। গিয়ে বুঝলাম, বড় ভুল করেছি।” বিজেপির আদর্শ নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “ওই দলের নীতিগত আর্দশ কোনও দিনও মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। এছাড়াও ওঁরা শিল্পীদের সম্মান করতে পারেন না।” এই মন্তব্যগুলিই তখন যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়েছিল।
এরপর সোহেল আবার তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যায়। এমনকী তিনি প্রকাশ্যে “দিদিতেই শান্তি” বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছিলেন। ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশেও তিনি হাজির ছিলেন। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতে দেখা যায় তাঁকে। ফলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন তিনি স্থায়ীভাবে তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির বড় জয়ের পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। রাজনৈতিক মহলে তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়, সোহেলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে। শুক্রবার সেই জল্পনাই যেন সত্যি হল।
শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণার পর ফেসবুকে সোহেল লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন! এবং আশা করছি, তিনি বাংলা ও বাংলার সিনেশিল্পের উন্নতিসাধনের জন্য সবকিছু করবেন।” প্রথম পোস্টে শুভেন্দুর সঙ্গে পুরনো একটি ছবিও শেয়ার করেছিলেন তিনি। কিন্তু পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ‘পাল্টিবাজ’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। সমালোচনার মুখে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। যদিও অভিনন্দনের বার্তা ঘিরে বিতর্ক থামেনি। সোহেলের এই অবস্থান বদলকে ঘিরে রাজনৈতিক ও বিনোদন দুই মহলেই নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
