টলিউডে আবারও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নতুন অভিযোগকে ঘিরে। জনপ্রিয় পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী। মঙ্গলবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মন্তব্য বিভাগে তিনি সরাসরি এই অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, একটি ঘরোয়া পার্টির সময় মদ্যপ অবস্থায় পরিচালক তাঁর সঙ্গে অনুচিত আচরণ করেন। অঙ্কিতার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং অশালীনভাবে স্পর্শ করার ঘটনাও ঘটে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই টলিউডে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে শিল্পী মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়। দীর্ঘদিন পর আবারও টলিউডে কাস্টিং কাউচ এবং হেনস্থার মতো বিষয় সামনে এসেছে। অঙ্কিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, তিনি এমন আচরণ মেনে নিতে পারেন না। তাঁর বক্তব্য ঘিরে অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ ঘটনার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি ব্যক্তিগত আড্ডার সময় ঘটে এবং সেখানে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী। এই ঘটনার পর থেকেই টলিউডে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
অঙ্কিতার আরও অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই তাঁর কর্মজীবনে প্রভাব পড়তে শুরু করে। বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, ঘটনার প্রতিবাদ করার পর থেকেই চাপ তৈরি করা হয়। এই বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসতেই আরও চর্চা শুরু হয় ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে। সাধারণ দর্শকের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফলে বিষয়টি ধীরে ধীরে আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে অভিনেত্রীর দাবি, অভিযোগ সামনে আসার কিছু সময় পরেই পরিচালকের সংশ্লিষ্ট পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়টি নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অঙ্কিতা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, যদি কোনও ভুল না হয়ে থাকে তাহলে পোস্ট কেন মুছে ফেলা হল। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। এই ঘটনায় পরিচালক এবং অভিনেত্রীর মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। দু’পক্ষের বক্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ফোন, মেল, হোয়াটসঅ্যাপ সব করেছি…উনি মিথ্যে কথা বলছেন!” “২৭ বছরের ফোরাম, অথচ অভিযোগ শুনতেই চাইল না!” আর্টিস্ট ফোরাম বিতর্কে প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে বি’স্ফোরক জিতু!
এই বিষয়ে দেবালয় ভট্টাচার্য জানান, যাঁর মন্তব্য ছিল, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি বলেও জানান। পোস্ট মুছে ফেলার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি আর প্রাসঙ্গিক ছিল না। অন্যদিকে অঙ্কিতা জানিয়েছেন, তিনি আইনি পথে এগোনোর বিষয়টি ভাবছেন। পাশাপাশি তিনি আরও গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টলিউডে এই ঘটনার জেরে আবারও হেনস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এখন সকলের নজর এই ঘটনার পরবর্তী অগ্রগতির দিকে।
