জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“ফার্স্ট হতাম কিন্তু তাও…” আজকের সুপারস্টার দেবের ছোটবেলায় কোন না-পাওয়ার কষ্ট লুকিয়ে ছিল মধ্যবিত্ত সংসারের চার দেওয়ালের ভিতরে? সাফল্যের ঝলকের আড়ালে কোন লড়াইয়ের গল্প শোনালেন অভিনেতা?

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই অভিনেতা তথা সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবকে ঘিরে নানা কটাক্ষ শোনা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে সম্প্রতি তিনি নিজেই একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রাজনীতিতে তাঁকে অনেক সময় জোর করেই টেনে আনা হয়েছে। আর সেই মন্তব্যের পর থেকেই একাংশের দাবি, সময় বদলাতেই নাকি বদলে গিয়েছেন দেবও। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের অবস্থান বদলাচ্ছেন কি না তিনি। তবে বিতর্ক, সমালোচনা কিংবা রাজনৈতিক তর্কের বাইরেও একটা বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলার দর্শকদের যে ধরনের বিনোদন তিনি উপহার দিয়েছেন, তা তাঁকে টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। একের পর এক বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবি, দর্শক টানার ক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ সব মিলিয়ে দেব আজও বাংলার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় নাম।

অভিনেতা হিসেবে তাঁর সাফল্যের তালিকাও কম নয়। রোম্যান্টিক হিরো থেকে অ্যাকশন, কমেডি কিংবা সামাজিক বার্তাধর্মী ছবি প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজেকে আলাদা ভাবে প্রমাণ করেছেন তিনি। শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, প্রযোজক হিসেবেও নতুন ধরনের গল্প এবং নতুন মুখকে জায়গা দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। বর্তমানে এমন একটা সময় তৈরি হয়েছে যেখানে দেব মানেই অনেক দর্শকের কাছে ‘হিট’ ছবির নিশ্চয়তা। দেশের বাইরে শুটিং, বিদেশ ভ্রমণ, বড় বাজেটের ছবি সবটাই এখন তাঁর জীবনের অংশ। কিন্তু আজ যাঁকে এত সফল এবং প্রতিষ্ঠিত মনে হয়, তাঁর ছোটবেলাটা কিন্তু মোটেও এত সহজ ছিল না। আর সেই অজানা সংগ্রামের কথাই এবার সামনে আনলেন অভিনেতা নিজে।

সম্প্রতি দ এক সাক্ষাৎকারে দেব নিজের ছোটবেলার নানা অভাবের কথা খুলে বলেন। তিনি জানান, তাঁদের পরিবার ছিল একেবারে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বাড়ির আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগের বন্ধন ছিল ভীষণ গভীর। দেবের কথায়, বাড়িতে কোনও সমস্যা হলে তা পুরোপুরি লুকিয়ে রাখা হত না। তিনি এবং তাঁর বোন ছোট থেকেই বুঝতে পারতেন কখন সংসারে টানাটানি চলছে। সেই সময়ের বাস্তব পরিস্থিতি তাঁদের অজানা ছিল না। আর সেই কারণেই ছোটবেলার অনেক ইচ্ছেকে চাইলেও পূরণ করতে পারেননি অভিনেতা।

দেব জানান, ছোটবেলায় তিনি পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলেন। প্রায় প্রতি পরীক্ষাতেই প্রথম হতেন। আর তাঁকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পরিবার থেকে বলা হত, প্রথম হতে পারলেই তাঁকে একটা সাইকেল কিনে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই সাইকেল আর কোনও দিন পাওয়া হয়নি তাঁর। অভিনেতার কথায়, “আমার কাছে একটা ললিপপ ঝুলিয়ে রাখা হত। আমি ফার্স্ট হতাম, কিন্তু সাইকেল পেতাম না।” কথাগুলো বলতে গিয়েও যেন ছোটবেলার সেই না পাওয়ার কষ্টটা ফিরে এসেছিল তাঁর গলায়। বর্তমানে যিনি চাইলেই একাধিক দামি গাড়ি কিনতে পারেন, একটা সময় তাঁর কাছে একটা সাধারণ সাইকেলও ছিল অনেক বড় স্বপ্ন। এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইকের ইচ্ছেও জাগে। কিন্তু সেই স্বপ্নও পূরণ হয়নি। দেব নিজেই বলেন, “বড় হয়ে বাইকের কথা শুরু হল, কিন্তু বাইকটাও আজ পর্যন্ত আসেনি।”

এই কথাগুলোই আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, সফলতার পিছনে কতটা লড়াই লুকিয়ে থাকে। আজকের সুপারস্টার দেবকে দেখে হয়তো অনেকেই শুধু তাঁর সাফল্য, জনপ্রিয়তা কিংবা বিলাসবহুল জীবনটাই দেখেন। কিন্তু সেই জায়গায় পৌঁছতে যে তাঁকে অভাব, না পাওয়া আর বাস্তবের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে বড় হতে হয়েছে, সেই গল্পটা অনেকেরই অজানা ছিল। হয়তো সেই কারণেই আজও সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ দেবের জীবনের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পান। কারণ তাঁর গল্পটা শুধু একজন তারকার সাফল্যের গল্প নয়, বরং স্বপ্ন দেখে লড়াই করে উঠে আসা এক সাধারণ ছেলের গল্প।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page