আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হতে পারে, এই আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁদের প্রকৃত আয় উল্লেখ করা হয়নি। সেই বিষয়কে কেন্দ্র করেই আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। আদালতে তাঁদের আইনজীবী জানান, আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হতে পারে। সেই কারণেই আগাম সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এই মামলার শুনানির আবেদন গ্রহণ করেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে। বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সেই আবহেই অদিতি ও দেবরাজের এই আগাম জামিনের আবেদন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা। যদিও এখনও পর্যন্ত এই মামলায় গ্রেফতারের মতো কোনও পদক্ষেপ হয়নি। তবুও সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতেই আগে থেকে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছিল অদিতি মুন্সিকে। সেই সময় তিনি বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যকে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। অদিতির প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চা শুরু হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। নির্বাচনী প্রচারেও তাঁকে সবসময় অদিতির পাশে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীকালে রাজনীতির ময়দানে এই জুটি নিয়ে একাধিক আলোচনা তৈরি হয়। ফলে বর্তমান ঘটনাও নতুন করে তাঁদের নামকে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনেও অদিতিকে একই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। নির্বাচনী প্রচারে দেবরাজকে তাঁর ছায়াসঙ্গীর মতো দেখা গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় আস্থা ধরে রাখতে পারেননি অদিতি। বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন তিনি। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার নতুন করে আইনি জটিলতার মুখে পড়লেন অদিতি ও দেবরাজ। ফলে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই মহলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আরও পড়ুনঃ “আসলে এত ছোট বয়সে মা হয়েছি…এটা আমাদের সমাজ থেকে বিলুপ্ত” বউমার দেওয়া বিশেষ শাড়ি পরে আবেগে ভাসলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়! চেনেন, অভিনেত্রীর ছেলেকে?
এদিকে, এই ঘটনার মধ্যেই মঙ্গলবার অমিত চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি বিধাননগরের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪ মে ভোট গণনার দিন বিজেপির বিজয় মিছিল আটকানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার তদন্তেই অমিতকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগেও একই ঘটনায় বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী এবং হেমন্ত চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ফলে একের পর এক ঘটনায় নতুন করে চাপে পড়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
