জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“যে আগুনে আমায় পুড়ি’য়েছিল, সেই আগুনে অনেকেই পুড়’ছে”, “রোজ বিরিয়ানি না খেলেও চলতো অনেকের, মনে আছে সব মনে আছে” পরমব্রত কান্ডের পর কেন এমন কথা বললেন রুদ্রনীল?

তৃণমূল আমলে বাংলার বিনোদন জগতে বারবার উঠেছে ‘ব্যান কালচার’-এর অভিযোগ। রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে অমিল হলেই অনেক শিল্পী কাজ হারিয়েছেন, এমন অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে টলিউডের অন্দরমহল থেকে। কেউ সরাসরি মুখ খুলেছেন, কেউ আবার চুপ থেকেছেন পরিস্থিতির চাপে। রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের একঘরে করে দেওয়া, প্রযোজকদের দূরত্ব তৈরি করা কিংবা কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার মতো অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরগরম ছিল বাংলা বিনোদন দুনিয়া। আর সেই আবহেই আবার নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য।

রুদ্রনীল ঘোষ বরাবরই টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম। অভিনয়ের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে তিনি রাজনীতির ময়দানেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন তিনি। তবে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরে যাননি। বরং বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। একই সঙ্গে বারবার অভিযোগ তুলেছেন, রাজনৈতিক মতের কারণেই তিনি বিনোদন জগতে কাজ হারাচ্ছেন।

এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিবপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করেন রুদ্রনীল। বর্তমানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী তিনি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা রাজনৈতিক চাপে কাজ করতে পারেননি বা ভয় পেয়েছেন, তাঁদের জন্য এবার পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তবে সেই সঙ্গেই তিনি এ কথাও মানছেন, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত লড়াই এবং জীবিকার প্রশ্ন আলাদা। তাই কাউকে দোষারোপ করার পক্ষপাতী নন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টলিউডের তথাকথিত ‘বয়কট কালচার’ নিয়ে মুখ খুলেছেন রুদ্রনীল। সেখানে তিনি বলেন, “রোজ বিরিয়ানি না খেলেও চলতো অনেকের, মনে আছে সব মনে আছে। যে আগুনে আমায় পোড়ানো হয়েছিল, এই মিছিল বার করে বয়কট করা, তখন যারা চুপ করেছিলেন তাদেরও পুড়তে হয়েছে।” তাঁর কথায়, অনেকেই সেই সময় প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেননি। কেউ লজ্জায় চুপ থেকেছেন, কেউ আবার কাজ হারানোর ভয়ে মুখ খোলেননি। রুদ্রনীলের মতে, সমাজে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদেরও অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির সামনে আপস করতে হয়।

এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেতা-বিধায়ক। তিনি আরও বলেন, “পেট যে বড় বালাই কাজের নেশাও তো একটা বড় বালাই। এটাও তো কোথাও একটা নাগরিক স্বাধীনতা চাওয়া। সেই যুদ্ধে সবাই যারা আসতে পারেননি আমি তাদের খারাপ কথা বলবো কেন?” অর্থাৎ, যাঁরা সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষ নিজের বাস্তবতা এবং নিরাপত্তার কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেন। রুদ্রনীলের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সাহসী বলে সমর্থন করছেন, আবার কেউ মনে করছেন, টলিউডে রাজনৈতিক বিভাজনের প্রসঙ্গ ফের সামনে এনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন অভিনেতা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page