প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তর শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ঘিরে আবারও ভারাক্রান্ত টলিউড। সেই ছবির মুখ্য চরিত্রে ছিলেন অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়। পরিচালকের মৃত্যুর খবর পেয়ে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। পুরনো স্মৃতি আর কাজের অভিজ্ঞতা উঠে আসে তাঁর কথায়। আবির জানান, অনীক দত্তর সঙ্গে কাজ করা ছিল এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। সেই কাজের শেষ ছবির কথাই এখন বারবার মনে পড়ছে তাঁর। তিনি বলেন, এই বিদায় এত দ্রুত হবে তা কেউ ভাবেননি।
আবির চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার সবচেয়ে বেশি বিঁধছে যে ওটা কেন শেষ ছবি হবে?” তিনি জানান, অনীক দত্ত মাঝেমধ্যে এমন কথা বলতেন। শরীর খারাপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আগেই ইঙ্গিত দিতেন বলে জানান আবির। তখন সবাই সেই কথা শুনে বিরক্ত হতেন এবং তাকে না বলতে বলতেন। আবিরের কথায়, অনীক দত্ত বলতেন শরীর ভালো যাচ্ছে না। তবুও কাজ থামাতে চাননি তিনি, শেষ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে গেছেন। আবির বলেন, তিনি বলতেন বসে বসে হলেও পরিচালনা চলবে। এই কথাগুলো এখন ফিরে এসে কষ্ট দিচ্ছে বলে জানান অভিনেতা।
আবির আরও জানান, ছবির সাফল্য তাদের কাছে বড় আনন্দের ছিল। ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ মুক্তির পর ভালো সাড়া পেয়েছিল বলে তিনি জানান। টিমের সবাই পার্ক স্ট্রিটে একসঙ্গে সেলিব্রেশনও করেছিলেন। সেই সময় অনীক দত্তকে ঘিরে অনেক হাসি, মজা আর আড্ডা হয়েছিল। আবির বলেন, তখন নতুন আরেকটি ছবির পরিকল্পনাও চলছিল। সবাই আশা করেছিলেন তিনি আবার নতুন কাজ শুরু করবেন। কিন্তু হঠাৎ করেই এই দুঃসংবাদ সবকিছু থামিয়ে দেয়। আবির জানান, প্রথমে তিনি অসুস্থতার খবর ভেবেছিলেন।
আরও পড়ুন: দেখা করতে চাননি প্রাক্তন স্ত্রী! সিঁড়ি দিয়ে উঠে যান পরিচালক অনীক দত্ত! আকস্মাৎ মৃ’ত্যুকে ঘিরে সামনে এলো সিসিটিভি ফুটেজ
পরিচালক অনীক দত্তকে নিয়ে নিজের অনুভূতিও ভাগ করেন আবির। তিনি বলেন, অনীক দত্ত ছিলেন এক অনন্য স্টাইলের মানুষ। তাঁর ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা এবং রসবোধ আলাদা ছিল। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন শিক্ষিত ও স্পষ্টবাদী মানুষ। আবির বলেন, তাঁর বিশ্বাস ও মতামত সবসময় দৃঢ় ছিল। তিনি যা মনে করতেন সেটাই খোলাখুলি বলতেন। এই ধরনের মানুষ এখন খুব কম দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, অনীক দত্ত ছিলেন বিরল এক ব্যক্তিত্ব।
আবির আরও বলেন, অনীক দত্তর চলে যাওয়া শুধু একজন পরিচালকের ক্ষতি নয়। এটি টলিউডের জন্য এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তাঁর কাজ, ভাবনা এবং সিনেমার ভাষা আলাদা জায়গা তৈরি করেছিল। আবির জানান, অনীক দত্তর সঙ্গে কাজ করা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর স্মৃতি ও কাজ সবসময় মনে থাকবে বলে জানান অভিনেতা। টলিউডে তাঁর অভাব দীর্ঘদিন অনুভূত হবে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে তাঁর তৈরি ছবি আগামী দিনে দর্শকের কাছে বেঁচে থাকবে। এভাবেই অনীক দত্তর স্মৃতি ঘিরে শোকের আবহ আরও গভীর হচ্ছে।
