রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর তথা অভিনেত্রী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও অতীতে দেখা গিয়েছে। তবে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। সম্প্রতি ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সদ্যপ্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর টলিপাড়ায় নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই মুখ খুলেছেন অনন্যা। তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্ক এবং টলিপাড়ার বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গে অনন্যা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “বিষয়টা ন্যায় এবং অন্যায়ের বিষয়। আমি নিজে মনে করছি এটা ব্যক্তি নয়, প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই হওয়ার প্রয়োজন। না হলে এমনটা চলতেই থাকবে। শুধু নামের পরিবর্তন হবে, রঙের পরিবর্তন হবে। মনে হচ্ছে সিস্টেমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। আশা করছি, সাধারণ মানুষের, বিশেষত টলিপাড়ার রাজনীতিতে মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভের সুবিচার হবে। বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রয়েছে আমার।” তাঁর মতে, সমস্যার মূল কারণ কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি নন, বরং একটি দীর্ঘদিনের চলতে থাকা ব্যবস্থা।
অনন্যার এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি আগে থেকেই এই সিস্টেমের সমস্যাগুলি সম্পর্কে জানতেন? কারণ একসময় শাসকদলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বহুবার আলোচনায় এসেছে। সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখানে তো মূলত স্টুডিয়োপাড়ায় রাজনীতি এবং সেখানে টেকনিশিয়ানদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা উঠে আসছে। সেই দিক থেকে বললে, ব্যক্তিগত ভাবে আমি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হইনি। আর আমি যেহেতু ফেডারেশনের কোনও পদে ছিলাম না, তাই আমার কাছে এসে কেউ অভিযোগও জানাননি। আমি সাধারণ আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য।” ফলে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বৃহত্তর অভিযোগকে তিনি আলাদা করে দেখার পক্ষে।
একইসঙ্গে অনন্যা মনে করেন, তাঁর কাছে অভিযোগ না এলেও যাঁরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন, তাঁদের বক্তব্যকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে জনমতের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই তিনি বলেন, “জনমত তৈরি হয়েছে। মানুষ সিস্টেমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানাতেই হবে।” টলিপাড়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকেই। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিল্পী ও কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ “সামনাসামনি বলে, ‘দিদি তোমাকে দেখে কত শিখেছি’, আর পিছন ফিরলেই গালাগালি!” কাদের ইঙ্গিত করে বিস্ফো’রক মন্তব্য জোজোর? আধুনিকতার দৌড়ে তবে কি হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত শ্রদ্ধাবোধ? কোন অভিজ্ঞতা থেকে এমন প্রশ্ন তুললেন গায়িকা?
নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করে অনন্যা বলেন, “আবার বলছি, ব্যক্তি নয়, প্রবণতার বিরুদ্ধে থাকতে চাই। সিস্টেমের পরিবর্তন প্রয়োজন। ব্যক্তি, জার্সি বা রং-এর পরিবর্তনের কথা বলছি না। যে লঙ্কায়, সে-ই রাবণ যেন না হয়ে ওঠে। এটাই আমার মত।” তাঁর মতে, কেবল মুখ বদলালেই সমস্যার সমাধান হবে না, প্রয়োজন গোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন। পাশাপাশি তিনি নতুন সরকারের উপরও আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন। এখন দেখার, টলিপাড়ার এই বিতর্কে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়।
