জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’-র (Jowar Bhanta) গল্পে শুরু থেকেই অন্যতম আলোচিত চরিত্র নিশা। জীবনের প্রথম বড় ধাক্কাটাও এসেছিল তার বিয়েকে কেন্দ্র করেই। বাবার আশা ছিল, সংসার শুরু করলে হয়তো অপরাধের অন্ধকার জগৎ থেকে দূরে সরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে সে। সেই বিশ্বাস থেকেই নিশার বাবা নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি ধারদেনা করে এবং নিজের জমি বিক্রি করেও বিয়ের খরচ জোগাড় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি এমন দিকে মোড় নেয়, যা গোটা পরিবারের জীবনই বদলে দেয়।
সেই ঘটনার অভিঘাত আজও যেন নিশার জীবনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। বিয়ের দিন পাত্রপক্ষের তরফে অতিরিক্ত অর্থের দাবি ওঠে বলে দেখানো হয় ধারাবাহিকে। প্রয়োজনীয় টাকা হাতে না থাকায় শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় বিয়ে। আর সেই অপমান, হতাশা এবং মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে মেয়ের চোখের সামনেই মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাঁর বাবা। সেই মুহূর্তই নিশার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাবার মৃ’ত্যুর জন্য যাঁদের দায়ী মনে করেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেয় সে। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিশোধের আগুনই তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে এবং সেই পথেই জড়িয়ে পড়ে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
গল্প যত এগিয়েছে, ততই দেখা গেছে নিশাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করছে তার বোন উজি। বারবার বোঝানোর পরও দিদির মন থেকে প্রতিশোধের আগুন মুছে ফেলতে পারেনি সে। তবে সাম্প্রতিক পর্বে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছিল। অফিসার জিৎ বসুর প্রতি ভালোবাসা জন্মানোর পর যেন নতুন করে জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিল নিশা। অতীতের ভুল সংশোধন করে স্বাভাবিক পথে ফেরার ইচ্ছাও প্রকাশ পায় তার মধ্যে। উজিও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, এতদিনের অন্ধকার শেষে হয়তো এবার সুখের পথে হাঁটতে পারবে তার দিদি।
সেই কারণেই উজির কথায় নিজের লুকিয়ে রাখা সমস্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নিশা। এরপর জিৎকে বিয়ে করার জন্য মণ্ডপেও বসে সে। কিন্তু সেখানেই অপেক্ষা করছিল জীবনের আরও এক বড় ধাক্কা। পরে জানা যায়, জিৎ আসলে দীর্ঘদিন ধরে প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছিল যে নিশাই প্রকৃত অপরাধী। আর সেই কারণেই টাকার হদিস পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল সে। সমস্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরই বিয়ের মণ্ডপে পুলিশ এসে নিশাকে গ্রেফতার করে। যে মানুষটিকে বিশ্বাস করে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিল, তার কাছ থেকেই এমন আচরণ পেয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে নিশা।
আরও পড়ুনঃ “মিঠুনদার জন্য সেদিন আমি ম’রতে বসেছিলাম…” ‘মহারাজের’-এর জন্মদিনে তাকে ঘিরে চাঞ্চ’ল্যকর দাবি করলেন দেবশ্রী রায়! উঠে এলো এই অজানা ঘটনা?
এই ঘটনাকে ঘিরেই এখন দর্শকমহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, নিশার জীবনে বিয়ে যেন বারবার অশুভ স্মৃতি বয়ে এনেছে। প্রথমবার বিয়ের মণ্ডপে বাবাকে হারিয়েছিল সে, আর দ্বিতীয়বার ভালোবেসে বিশ্বাস করেছিল যাকে, সেই মানুষের হাতেই গ্রেফতার হতে হলো তাকে। ফলে আবারও তার মধ্যে পুরনো প্রতিশোধের আগুন জেগে উঠেছে বলে মনে করছেন দর্শকরা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই বিশ্বাসভঙ্গের পর হয়তো আরও কঠিন এবং বিপজ্জনক পথে হাঁটতে পারে নিশা। এখন দেখার, আগামী পর্বে এই আঘাতের জবাব কীভাবে দেয় ‘জোয়ার ভাঁটা’র অন্যতম আলোচিত চরিত্র।
