জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“একই গল্প বারবার কেন?”, “গ্রামের মেয়ে, শহরে পড়তে এসে বিয়ে, স্বামী ছাড়া মায়ের একই ভাগ্য…আর কত?” টিআরপির লোভে একটা হিট ফর্মুলাকেই কি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানো হচ্ছে? ‘পরিণীতা’ থেকে ‘দুলারী’, চরিত্র গঠন থেকে একই ছকের গল্পের পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাংলা ধারাবাহিকে দর্শকরা!

বাংলা টেলিভিশনের ধারাবাহিক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বরাবর তুঙ্গে থাকে। জি বাংলায় নতুন ধারাবাহিক ‘দুলারী’-র প্রোমো দেখার পর অনেকেই পুরনো একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সমাজ মাধ্যমে দর্শকদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চ্যানেলে এমন কিছু গল্প বারবার দেখা যাচ্ছে, যেখানে মূল কাঠামো প্রায় একই রকম। চরিত্রের নাম বদলালেও বা পরিবেশে কিছু পরিবর্তন এলেও গল্পের ভিত্তিটা নাকি খুব একটা আলাদা নয়। সেই কারণেই আবারও মৌলিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দর্শকদের মতে, ‘আলতা ফড়িং’, ‘পরিণীতা’ এবং এবার ‘দুলারী’, এই তিনটি ধারাবাহিকের মধ্যে একাধিক মিল রয়েছে, বিশেষ করে নায়িকার মায়ের চরিত্রের অভিনেত্রী এবং তার স্বামী ছাড়া ভাগ্যের। তিন ক্ষেত্রেই নায়িকা গ্রামের মেয়ে। তিনটি গল্পেই তাঁর মায়ের জীবনে স্বামীকে হারানোর বা স্বামীর সঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে। এরপর ভালো ভবিষ্যতের আশায় শহরে এসে নতুন জীবন শুরু করার লড়াই দেখা যায়। দর্শকদের দাবি, এই মিলগুলো এতটাই স্পষ্ট যে নতুন ধারাবাহিক দেখার সময় অনেকের কাছেই পুরনো গল্পের স্মৃতি ফিরে এসেছে।

বিশেষ করে ‘পরিণীতা’ এবং ‘দুলারী’-র মধ্যে আরও কিছু মিল নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই ধারাবাহিকেই নায়িকা উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে শহরে আসে। আর প্রথম দিনেই নিজের গ্রাম্য ভাষা, পোশাক এবং সহজ-সরল স্বভাবের জন্য অন্যদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। দর্শকদের একাংশের মতে, শুধু গল্পের মূল কাঠামো নয়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু দৃশ্যও যেন একই ছকে সাজানো হয়েছে। ফলে নতুন গল্প দেখার বদলে আগের ধারাবাহিকেরই অন্য সংস্করণ দেখছেন বলে মনে হচ্ছে অনেকের।

সমাজ মাধ্যমে অনেকে লিখছেন, একটি ধারাবাহিক নির্দিষ্ট ধরনের গল্প দেখিয়ে জনপ্রিয়তা পেলে পরে সেই একই ফর্মুলা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাঁদের মতে, প্রথমদিকে এই ধরনের গল্প দর্শকদের আকর্ষণ করলেও বারবার একই ধরনের ঘটনা দেখানো হলে আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে যায়। চরিত্র, সংলাপ বা লোকেশন বদলালেও যদি গল্পের মোড় এক থাকে, তাহলে নতুনত্বের অভাব অনুভব করেন দর্শকরা। তাই এবার অনেকেই নির্মাতাদের কাছে আরও ভিন্নধর্মী ও মৌলিক চিত্রনাট্যের দাবি জানাচ্ছেন।

দর্শকদের মতে, বাংলা ধারাবাহিকের সাফল্যের অন্যতম কারণ সবসময়ই ছিল নতুন গল্প এবং নতুন চরিত্র। কিন্তু একই ধরনের ঘটনাপ্রবাহ বারবার ফিরে এলে সেই বৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তাঁদের আশা, আগামী দিনে জনপ্রিয় ফর্মুলার উপর নির্ভর না করে আরও নতুন ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিক তৈরি হবে। কারণ দর্শকদের বিশ্বাস, অভিনয় যতই ভালো হোক, শেষ পর্যন্ত একটি ধারাবাহিককে দীর্ঘদিন জনপ্রিয় করে রাখে তার গল্পের মৌলিকতাই।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page