একসময় অভিনেতা ও বর্তমান জনপ্রিয় ইউটিউবার ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর সঙ্গে সুস্মিতা রায়ের সম্পর্ক ছিল দেওর ও বৌদির। সুস্মিতার তৃতীয় স্বামী ছিলেন সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তী, যিনি সায়কের দাদা। পরে সেই দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে একে অপরকে নিয়ে নানা অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়। সেই বিতর্কে সায়কও জড়িয়ে পড়েন। তখনই সামনে আসে যে শুভাশিস দে-কে বিয়ে করে এটি সুস্মিতার চতুর্থ বিয়ে। নিজের ব্যবসায়িক সঙ্গী শুভাশিসের সঙ্গে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই অনেকের ধারণা হয়েছিল, বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন সুস্মিতা। তবে সেই সময় তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সন্তানের জন্মের পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সুস্মিতা এবং তাঁর স্বামী শুভাশিস দে। সেখানেই তাঁরা কেক কেটে নতুন জীবনের আনন্দ ভাগ করে নেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুস্মিতা স্পষ্ট জানান, বিয়ের আগে তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন কি না, সেই প্রসঙ্গে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। তাঁর কথায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তানের মুখ দেখতে পেরে তিনি এখন শুধু সেই আনন্দই উপভোগ করছেন। অতীতের বিতর্ক নিয়ে আর কথা বলতে চান না বলেও তিনি জানান। নতুন সদস্যকে ঘিরে তাঁদের পরিবারে এখন শুধুই খুশির পরিবেশ।
সুস্মিতা আরও জানান, এবার তিনি প্রথম থেকেই একটি ছেলে সন্তান চেয়েছিলেন। কারণ ২০১৯ সালে তাঁর গর্ভে যে সন্তান মারা গিয়েছিল, সে একটি ছেলে ছিল। সেই ব্যক্তিগত স্মৃতির কারণেই তাঁর এই ইচ্ছা ছিল বলে তিনি জানান। যদিও তাঁর স্বামী শুভাশিসের আশা ছিল একটি মেয়ে হবে। মজার ছলে সুস্মিতা বলেন, যেদিন তাঁর সন্তান জন্মায়, সেদিন হাসপাতালের ওই ফ্লোরে যত শিশুর জন্ম হয়েছিল, তাদের মধ্যে একমাত্র তাঁরই ছেলে হয়েছে, বাকিরা সবাই মেয়ে। তাই তিনি আদর করে নিজের ছেলেকে “কলির কেষ্ট” বলে ডাকছেন। এই কথাও তিনি হাসিমুখেই সংবাদমাধ্যমকে জানান।
এর আগেও সুস্মিতার একাধিক বিয়ে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের সমালোচনা এবং কটাক্ষ হয়েছিল। সেই সময় একটি লাইভ ভিডিওতে এসে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি কোনও ভুল কাজ করেননি। বরং অনেকেই এখন কোনও সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়াই একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, কিন্তু তিনি প্রতিটি সম্পর্ককেই বিয়ের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, খুব অল্প বয়সে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু সেই সংসার টেকেনি। পরে পরিবারের চাপে বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে সেই স্বামী অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় সেই দাম্পত্যও ভেঙে যায়।
আরও পড়ুনঃ দিদির সঙ্গে একঘরে রাত কাটাবে ঝিনুক! সেই সুযোগেই সম্রাটের সব গোপন কথা ফাঁস করবে ঝিনুক? দিদির কাছেই খুলে বলবে নিজের ওপর হওয়া অ’ত্যাচা’রের কথা? ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের টানটান পর্ব!
তৃতীয় স্বামী সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়েও সুস্মিতা প্রকাশ্যে একাধিক অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সব্যসাচীর বিকৃত যৌন মানসিকতা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণেই তাঁদের সংসার ভেঙে যায়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মা হওয়ার বিষয়ে সব্যসাচী এবং সায়ক চক্রবর্তীর পরিবারের সমর্থন ছিল না। এই সমস্ত বিতর্কের মধ্য দিয়েই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে বর্তমানে অতীতের সব বিতর্ক সরিয়ে রেখে নতুন সন্তানকে ঘিরেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন সুস্মিতা। মাতৃত্বের এই নতুন অভিজ্ঞতাই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ বলে তিনি জানিয়েছেন।
