জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

প্রতিবন্ধকতা যতই আসুক, ইচ্ছাশক্তিই আসল! এক জীবনে একাধিক সাফল্য, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ থেকে অভিনেত্রী ও সমাজসেবী হিসেবে দীপান্বিতা হাজারির বর্ণময় যাত্রা! ৭১ বছর বয়সে তিনি কীভাবে হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ?

তাঁর জীবনকে শুধুমাত্র একজন চিকিৎসকের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের পাশাপাশি অভিনয় জগতেও তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে করেছেন। হ্যাঁ, কথা হচ্ছে ‘দীপান্বিতা হাজারি’কে (Dr. Dipanwita Hazari) নিয়ে। বয়সের এই পর্যায়েও তাঁর কাজের প্রতি আগ্রহ এবং নতুন কিছু করার ইচ্ছা একটুও কমেনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জীবনের নানান অজানা গল্প অকপটে ভাগ করে নিলেন তিনি। ছোট থেকেই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চেয়েছিলেন তিনি, পরবর্তীতে ভালোলাগা থেকেই অভিনয়টা শুরু করা। তবে বিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন বিষয় সংবাদপত্রে লেখালেখি থেকে শুরু করে নারীদের সামাজিক অবস্থান নিয়েও নানান কাজে যুক্ত তিনি।

তাঁর মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা শুধু বড় চাকরি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ছোট পরিসর থেকেও আয় করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, একজন নারী যদি নিজের প্রয়োজনের সামান্য জিনিস কেনার ক্ষেত্রেও অন্যের ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে সেই নির্ভরশীলতা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ‘সন্ধ্যা রাগ’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন, যেখানে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের হাতে-কলমে বিভিন্ন কাজ শেখানো হয়, যাতে তারা নিজের চেষ্টায় জীবিকা অর্জন করতে পারেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে নারীস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, চিকিৎসক হওয়ার জন্য তাঁকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। এমন এক সময়ে তিনি মেডিকেলে ভর্তি হন, যখন মেয়েদের উচ্চশিক্ষা এবং পেশাগত প্রতিষ্ঠা এখনও সমাজে বাধার মুখে পড়ত। মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়, প্রথমেই ভেবেছিলেন সংসারের দায়িত্ব হয়তো স্বপ্নকে কেড়ে নেবে। কিন্তু স্বামীর বিশ্বাস আর ভরসায় এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি সেই আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করেন। চিকিৎসা পেশায় দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় সফলভাবে কাজ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও পেশার মধ্যে ভারসাম্যও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

চিকিৎসা কিংবা সমাজসেবার বাইরে অভিনয় জগতেও তিনি পরিচিত মুখ। পর্দায় তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় এবং ব্যক্তিত্ব দর্শকদের কাছে তাঁকে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। তবে জনপ্রিয়তার চেয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা মানুষকে সমৃদ্ধ করে এবং সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বিভিন্ন ক্ষেত্রের কাজ করতে সাহস জুগিয়েছে। হয়তো সেই কারণেই চিকিৎসকের দায়িত্ব, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং শিল্পচর্চা, তিনটি ভিন্ন জগতকে তিনি সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন।

জীবনের এত দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসে তাঁর উপলব্ধি নতুন প্রজন্মের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মনে করেন, বয়স কখনও মানুষের সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করে না। বরং সময়ের সঙ্গে অর্জিত অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও ধীরস্থির ও পরিণত করে তোলে। বর্তমান সময়ে নারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ পাচ্ছেন বলেও তিনি মনে করেন, তবে সেই সুযোগকে কাজে লাগানোর দায়িত্বও তাঁদের নিজেদের। তাঁর জীবন দেখায়, একাধিক পরিচয় নিয়েও সফল হওয়া সম্ভব, যদি নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ একসঙ্গে ধরে রাখা যায়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page