নতুন বাংলা ছবি ‘নেভার মাইন্ড’ মুক্তির পর থেকেই অভিনেতা অমর্ত্য রায়কে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়। তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি চেহারা, পোশাক, গলায় গয়না পরা এবং ছবিতে সুযোগ পাওয়া নিয়েও নানান ধরনের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। অনেকেই তাঁকে স্বজনপোষণের উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন। সেই সময় থেকেই ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল। তিনি জানিয়েছিলেন, অমর্ত্য একজন রক মিউজিশিয়ান, অভিনয়ের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন এবং এটি তাঁর প্রথম কাজ নয়। পরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘নেভার মাইন্ড’ ছবির জন্য অমর্ত্য ‘শুটিং স্টার’ সম্মান পাওয়ার খবর সামনে আসার পর সেই সাফল্যের কথা তুলে ধরে সমালোচকদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
এবার সেই প্রসঙ্গেই তাঁর নতুন মন্তব্য ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে চৈতি ঘোষাল বলেন, “অমর্ত্যর পারফরম্যান্সেই একটা ‘সাইলেন্ট স্ল্যাপ’ ওরা পেয়েছে। তবে অনেক সময় অদৃশ্য মারেও কোনও কাজ হয় না, নিজেদের জায়গা বুঝতে পারলে ঠিক চুপ করে যাবে একদিন।” অভিনেত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এখানে ‘ওরা’ বলতে তিনি অমর্ত্যকে নিয়ে কটাক্ষ করা এবং তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমালোচকদেরই বোঝাতে চেয়েছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক পুরস্কারের খবর জানিয়ে নিজের সামাজিক মাধ্যমেও তিনি লিখেছিলেন, “এবার এটাকে যথাযথ উত্তর বলব, নাকি আমাদের প্রিয় ট্রোলারদের উদ্দেশে নীরব এক চড় বলব, সেটা আপনারাই ঠিক করুন।”
সেই বক্তব্যের পর এবার সাক্ষাৎকারেও একই সুরে মন্তব্য করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে একের পর এক প্রতিক্রিয়া জমা পড়তে থাকে। চৈতি ঘোষালের এই মন্তব্যের পর দর্শকদের একাংশ সরাসরি ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। একজন লেখেন, “অনেক সুযোগ্য অভিনেতা অভিনেত্রী কত পুরস্কার পাননি, তার মানে তাঁদেরও ‘স্ল্যাপ’ মারলেন সপাটে!” আরেকজনের মন্তব্য, “ম্যাডাম, অমিতাভ বচ্চনও কিন্তু নিজের ছেলেকে নিয়ে আমড়াগাছি করতে পারতেন, কিন্তু করেননি। কারণ উনি ভালো মতো জানেন, শেষ কথা বলে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা!” আরও একটি মন্তব্যে লেখা হয়, “আপনার ছেলে পুরস্কার পেয়েছে খুব ভালো কথা। তবে আপনি তো এতদিন অভিনয় জগতে আছেন, আপনার জানা উচিত দর্শকই নিন্দে করে, দর্শকই আদর করে।
দর্শক আপনাদের ভগবান। আর আপনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে যথেষ্ট ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছেন, যেটা কিন্তু খুব ভালো নিদর্শন হয়ে থাকলো না।” শুধু এখানেই থামেননি নেটিজেনদের একাংশ। আরও একজন লেখেন, “আর পয়সা ফেরত না পেলে পুরস্কার বিক্রি করে খেতে হয়, এরকম ভুড়ি ভুড়ি উদাহরণ আছে প্রোডিউসার থেকে অ্যাথলিট পর্যন্ত। গায়ক থেকে নায়ক, সবাইকেই দর্শক এবং শ্রোতাদের সমালোচনা পেরিয়ে সাফল্য পেতে হয়েছে।” একই মন্তব্যে আরও যোগ করা হয়, “কুমার গৌরবকেও লোকে একটা সিনেমার পর নেয়নি। কাজেই ঔদ্ধত্য দেখাবেন না!” এই সব মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেও।
আরও পড়ুনঃ “৪০ বছর বয়সে নায়িকাদের যখন কেরিয়ার প্রায় শেষ হয়ে যায়, আমি এখানে এখন দাঁড়িয়ে আছি, এটা একটা বড় ইনিংস!” “প্রথমদিন রোবটের মতো ছিলাম, এখন…” রচনার জনপ্রিয়তা সামলে দিদি নম্বর ১ হোস্ট করার চ্যালেঞ্জ, প্রথমে কেন ভয় পেয়েছিলেন স্বস্তিকা?
ফলে চৈতি ঘোষালের বক্তব্যকে ঘিরে সমর্থন এবং সমালোচনা, দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই সামনে আসছে। কেউ তাঁর ছেলের সাফল্য উদযাপন করছেন, আবার কেউ তাঁর মন্তব্যের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। উল্লেখ্য, ‘নেভার মাইন্ড’ ছবি এবং অমর্ত্য রায়কে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। ছবি মুক্তির পর থেকেই তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিগত স্টাইল এবং ছবিতে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। সেই সময় ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে চৈতি ঘোষাল একাধিকবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন এবং পরে আন্তর্জাতিক সম্মানের প্রমাণও সামনে আনেন। এবার ‘সাইলেন্ট স্ল্যাপ’ মন্তব্য ঘিরে আবারও সেই পুরনো বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সমাজমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে এখনও মতভেদ স্পষ্ট। একদল মনে করছেন কাজের স্বীকৃতি নিজেই সব প্রশ্নের উত্তর, অন্যদিকে আরেকদল বলছেন, শেষ পর্যন্ত একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় বিচারক দর্শকরাই।
