জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“তৃণমূলী থেকে স্বপ্নে ব্যাঘাত ঘটেছে! আমরা সবাই বিজেপি সমর্থক! দাদা পাশে থাকলে হুগলির উন্নয়ন সম্ভব!” ফের রচনার উল্টো সুর! চুঁচুড়ার সাংসদের মন্তব্যে তুঙ্গে চর্চা!

মাত্র দু’বছর আগে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী ‘রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rachana Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে তিনি এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে আবার তৃণমূলকে নিয়ে বি’স্ফোরক মন্তব্য করতেও দেখা গেছে তাঁকে। যেমন তিনি বলেছেন, তাঁকে ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনদিনও চুঁচুড়ার আসন পেতেন না বা দলে এত দুর্নীতি, জানলে আগে তিনি নিজের নাম লেখাতেন না! তবে এদিন দেখা গেল ব্যতিক্রমী চিত্র!

বুধবার হুগলির চুঁচুড়ায় জেলা স্তরের দিশা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগকে পাশে নিয়ে তাঁর প্রশংসা করেন রচনা। সেখানেই হাসিমুখে বলেন, “চুঁচুড়ায় মনের মতো বিধায়ক পেয়েছি।” পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দল পরিবর্তনের কারণ নিয়েও খোলামেলা বক্তব্য রাখেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকের সামনেই তিনি উন্নয়নের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দেন। অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রচনা বলেন, রাজনীতিতে আসার সময় তাঁর কোনও বিশেষ পরিকল্পনা ছিল না। তিনি জানান, “এখানে যদি দাদার সহযোগিতা পাই, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা পাই, আমাদের হুগলির প্রচুর উন্নয়ন হবে। আমরা সবাই ভারতীয় জনতা পার্টির সাপোর্টার।

আমরা জানি ভালো কাজ হবে। আমরা আর কিছু চাই না। আগে কী হয়েছে, কী হত না, সেসব পোস্টমর্টেম করে এখন লাভ নেই। আমাদের লক্ষ্য এখন রাজ্যের উন্নয়ন।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে তিনি এখন উন্নয়নের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান। সেই কারণেই সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার কথাও বলেন তিনি। দল পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উঠতেই নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যাঁরা বহু বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস করছেন, তাঁদের সঙ্গে আমার বক্তব্যের তফাত থাকবে। আমি একটা অন্য জায়গা থেকে এসেছি। আমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই।

আমি যা যা উপলব্ধি করেছি, যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে বলেই দল পরিবর্তন করেছি। বাকিরা কী মতামত দেবে, সেটা তাদের ব্যাপার।” তাঁর মতে, রাজনীতিতে আসার সময় যে লক্ষ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন, তা পূরণ না হওয়াতেই তিনি নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধির ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে বলেও জানান। তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়েও প্রশ্ন করা হলে রচনা নিজের মত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একুশে জুলাই ভীষণ একটা আবেগময় দিন। এটার মধ্যে ভালো তৃণমূল, খারাপ তৃণমূল এসব নেই। এগুলোকে পিছনে ফেলে রেখে যারা ওই দিন শহিদ হন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দিনটাকে পালন করা উচিত।”

একইসঙ্গে তিনি জানান, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শহিদদের প্রতি সম্মান জানানো উচিত। তাঁর মতে, এই দিনটিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে স্মরণ ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই পালন করা প্রয়োজন। চুঁচুড়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এদিন আলোচনা হয়। একসময় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের সঙ্গে রচনার সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানান জল্পনা ছিল। এদিন অনুষ্ঠান শেষে যাওয়ার সময়ও ভবিষ্যতে যোগাযোগ রেখে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page