জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে আজকাল স্মার্ট পরিচালক অনেক, কিন্তু তাদের ছবি চলে না’ বর্তমানে বাংলা সিনেমার মান নিয়ে অকপট বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে, কাঁদের তুললেন কাঠগড়ায়?

বাংলা সিনেমার বর্তমান অবস্থা নিয়ে টলিউডে মাঝেমধ্যেই নানা আলোচনা হয়। সেই প্রসঙ্গেই নিজের স্পষ্ট মত জানালেন বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে (Dipankar Dey)। তাঁর কথায়, আগের তুলনায় বাংলা ছবির মান অনেকটাই কমেছে। তিনি বলেন, “বাংলা ছবির মান আগের থেকে নিশ্চয়ই খারাপ হচ্ছে, আগের মতো সুষ্ঠু কাহিনী বিন্যাস নেই, কিছু নেই, পরিচালকদের সেই দরদ নেই। এখন আছে কিছু স্মার্ট পরিচালক, তাঁদের ছবি চলে-টলে না।” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি বর্তমান বাংলা ছবির পরিস্থিতি নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

একটা দীর্ঘ বিরতির পর আবার বাংলা ছবিতে ফিরেছেন দীপঙ্কর দে। একসময় তাঁকে নিয়মিত বাংলা ধারাবাহিকে দেখা যেত। তবে এখন বয়সের কারণে আগের মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি আর্টিস্টস ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বাংলা সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতির পাশাপাশি নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের কিছু স্মৃতিও ভাগ করে নেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে এক বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা, যা আজও তাঁর কাছে ভীষণ মূল্যবান।

সেই অনুষ্ঠানে দীপঙ্কর দে জানান, কীভাবে কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, তখন তিনি চাকরি করতেন। একদিন অনেক কষ্টে সত্যজিৎ রায়ের ফোন নম্বর জোগাড় করে তাঁকে ফোন করেন। ফোন ধরেই সত্যজিৎ রায় নাকি বলেছিলেন, “না, না, রোল-টোল কিছু নেই।” কিন্তু তাতেও পিছিয়ে যাননি দীপঙ্কর। তিনি অনুরোধ করে বলেন, যদি একবার দেখা করার সুযোগ পাওয়া যায়। তাঁর কথায়, “কী জানি, কেন মায়া হলো, উনি সময় দিলেন।” এরপর নির্দিষ্ট দিনে তিনি দেখা করতে যান।

দীপঙ্কর দে জানান, পরদিন তিনি স্যুট-টাই পরে সত্যজিৎ রায়ের বাড়িতে পৌঁছেছিলেন। দরজা নাকি নিজেই খুলেছিলেন পরিচালক। প্রথমেই তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “কেন এসেছেন?” তখন দীপঙ্কর উত্তর দেন, “আপনিই সময় দিয়েছেন।” এরপর সত্যজিৎ রায় জানতে চান তিনি চা খাবেন কি না। দীপঙ্কর বলেন, তিনি রাজি হয়েছিলেন এই ভেবে যে এতে আরও কিছুক্ষণ কথা বলার সুযোগ মিলবে। সেই সময় তিনি দেখেছিলেন, কথা বলতে বলতেই সত্যজিৎ রায় স্কেচ আঁকছিলেন। সেই মুহূর্ত আজও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন হয়ে রয়েছে।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে সত্যজিৎ রায় তাঁকে জানান, “সীমাবদ্ধ”-তে একটি ছোট চরিত্র রয়েছে এবং সেই চরিত্রের জন্য তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরিচালক আগেই বলেছিলেন চরিত্রটি খুব ছোট। কিন্তু দীপঙ্কর দে তাতে কোনও আপত্তি করেননি। বরং তিনি বলেছিলেন, “উনি বলেছিলেন চরিত্রটা ছোট, কিন্তু আমি বলি, ওঁর ছবিতে কাজ পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।” এইভাবেই সত্যজিৎ রায়ের ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, যার স্মৃতি আজও তিনি একই আবেগ নিয়ে মনে করেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page